বিশ্ব

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানে ফের মার্কিন হামলা, ড্রোন ভূপাতিতের দাবি তেহরানের

  • 2:32 pm - July 08, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২২৫ বার
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানে ফের মার্কিন হামলা, ড্রোন ভূপাতিতের দাবি তেহরানের। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৮ জুলাই- যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের হামলার অভিযোগ তুলে পাল্টা বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। অন্যদিকে মার্কিন একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতির পর স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছে তেহরান।

ইরানের আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহবি দেশটির সংবাদ সংস্থা তাসনিমকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর আকাশপথে আগ্রাসনের জবাবে বুশেহর প্রদেশের খোরমুজ এলাকার আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন শনাক্ত করে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুলি করে ভূপাতিত করেছে। তাঁর দাবি, ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমায় শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল।

এদিকে কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমার দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে তারা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। এক বিবৃতিতে বাহিনী জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, সেগুলো মূলত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করার ফল। একই সঙ্গে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের শান্ত থাকার এবং নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনা জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোর ৫টা থেকে পুনরায় স্বাভাবিকভাবে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে।

মার্কিন সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বেসামরিক নাবিক বহনকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান হামলা চালানোর পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও তেহরান এখন পর্যন্ত ওই হামলার দায় স্বীকার কিংবা অস্বীকার কোনোটিই করেনি।

সেন্টকমের দাবি, অভিযানে ইরানের ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা, জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আইআরজিসির ৬০টির বেশি ছোট নৌযান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগত কয়েকটি এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর মধ্যে সিরিক বন্দর, কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস এবং খার্গ দ্বীপ উল্লেখযোগ্য। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি দাবি করেছে, হামলার অধিকাংশই বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। সিরিকের বাণিজ্যিক জেটিতে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সামরিক সদর দপ্তর মার্কিন হামলাকে ‘নির্লজ্জ আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছে, এই হামলার ‘চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়া জবাব’ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির বিষয়ে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। তাদের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের জন্য নিরাপদ নৌপথ হবে কেবল সেই পথ, যা ইরান নির্ধারণ করবে।

ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একাধিক সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিরোধিতা, ভবিষ্যতে আরও হামলার হুমকি, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল, দক্ষিণ ইরানে হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযানকে সমর্থন করা, এসবই যুক্তরাষ্ট্রের গুরুতর চুক্তিভঙ্গ।

এক্সে দেওয়া আরেকটি বার্তায় গালিবাফ লেখেন, ‘ভয় দেখানো ও জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার যুগ শেষ হয়েছে। এসবের কোনো ফল হবে না। আমরা মাথা নত করব না।’

খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের যৌথ সামরিক বিবৃতিতেও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলা প্রমাণ করে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির পর স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক মানতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং হরমুজ প্রণালির বিষয়ে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না।

এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ইরানের অন্তত তিনটি এলাকায় একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। কেশম দ্বীপে অন্তত ছয়টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী সিরিক বন্দরে সাত থেকে নয়টি হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়ে মিনাব শহরের হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া বন্দর আব্বাসে অন্তত ১০টি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। সেখানে কয়েকটি জেটি এবং একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার হামলার শিকার হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, নৌপরিবহন এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এই শাখার আরও খবর

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের ১৫৬তম জন্মবার্ষিকী আজ

আজ ৫ নভেম্বর, উপমহাদেশের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা, প্রখ্যাত আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও সমাজসংস্কারক দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের ১৫৬তম জন্মবার্ষিকী। ১৮৭০ সালের এই দিনে কলকাতায়…

আইনজীবীর পরামর্শে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট :  ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় জামিন নিতে আদালতে হাজির হয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বুধবার তাঁর জামিন…

অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ি থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার, ছুরিসহ ৭২ বছর বয়সী ব্যক্তি গ্রেপ্তার

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের (এনএসডব্লিউ) মিড নর্থ কোস্ট এলাকায় একটি বাড়ি থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ছুরিসহ ৭২ বছর বয়সী এক…

২০১৬ সালের পানামা পেপার্স: কী ছিল সেই চাঞ্চল্যকর ফাঁসে?

২০১৬ সালে বিশ্বের ২ লাখ ১৪ হাজার ব্যক্তির টাকা পাচারের নথি প্রমাণ সহ ফাঁস করে দিয়েছিলো পানামা পেপার্স।১১.৫ মিলিয়নের এই নথিতে নাম ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী…

জলবায়ু পরিবর্তনে খাদ্যনিরাপত্তা হুমকিতে, দুর্ভিক্ষের শঙ্কা

ভাস্কর দত্ত :  জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশে খাদ্যনিরাপত্তা ক্রমেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও বাস্তুচ্যুতির কারণে জীবিকা হারাচ্ছেন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর…

রিপাবলিকানদের নির্বাচনী পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করলেন ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর দাবি, যুদ্ধ নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au