মুক্তিপণ নিতে এসে আটক এনসিপির দুই নেতা, ছাড়াতে গিয়ে গ্রেপ্তার আরও তিন
মেলবোর্ন, ৯ জুলাই- দিনাজপুরে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির একটি ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতাসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অপহৃত এক ব্যক্তির…
মেলবোর্ন, ৮ জুলাই- মিশর তো বিশ্বকাপ খেলতে আসেনি, তারা এসেছিল একটা বিশেষ রাজনীতি নিয়ে। মিশরের কোচ ফিলিস্তিনির পতাকা উড়িয়ে ছিল মাঠে। আর দাবী করেছিল, ‘যে ফিলিস্তিনিদের ভালোবাসে না সে মানুষই নয়’!
মানুষ হতে হলে ফিলিস্তিনিদের ভালোবাসতেই হবে! এই ব্রাদারহুড রাজনীতিটাই প্রচার করতে এসেছে তারা। কেন ফিলিস্তিনিদের ভালোবাসাই মানুষ হওয়ার শর্ত? এই ফিলিস্তিনিরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে ছিল। ইয়াসির আরাফাত বাংলাদেশের স্বাধীনতা পক্ষে নয়, পাকিস্তানের ঐক্যের জন্য সফর করেছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই ফিলিস্তিনিরা ‘মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানের’ পক্ষে ছিল। ফলে বাংলাদেশের মানুষ যদি ফিলিস্তিনিদের পক্ষে না থাকে তাহলে তারা কিভাবে মানুষ হবে না? তাছাড়া মিশর তো ফুটবল খেলতে এসেছে- রাজনীতি নয়। কিন্তু তারা রাজনীতিই করতে এসেছে- সেটা ইসলামিক জাতি রাজনীতি। ড্রেসিংরুমে তারা কুরআন পাঠ করে খেলতে নেমেছে এটা সাংবাদিকরা জানলো কিভাবে? ড্রেসিংরুমের খবর বাইরে বের হয় না। তারা জানিয়েছে। তারা বিশ্বকাপে ভিকটিম সাজতে এসেছে। ফুটবলের নিয়মকানুন তারা জানে। কিন্তু তাদেরকে হারিয়ে দেয়া হয়েছে ফিফা ও রেফারি মিলে এটা বলার অর্থ হচ্ছে মুসলিম দেশকে জোর করে হারিয়ে দিয়েছে। কারণ ম্যাচের আগেই কুরআন পড়ার কথাটা ছড়ানো হয়েছে। ইন্টারেস্টিং হচ্ছে মোহাম্মদ সালাহ কিন্তু একবারের জন্য বলেনি আমাদের গোলটা ফাউল দাবীতে যেটা বাতিল করা হয়েছে সেটা সঠিক নয়, কিংবা স্বয়ং সালাহকে ফাউলের অভিযোগেও সে ভিকটিম সাজতে চায়নি। কারণ ইউরোপে ফুটবল খেলা সালাহ এই দাবী করলে কি করে মুখ দেখাবেন কদিন পর লীগ শুরু হলে?
পৃথিবীর কোন ফুটবল এ্যানালাইসিস্ট গতকালের ম্যাচের পর কোথাও বলেনি চরম বাজে রেফারিং হয়েছে। কারণ তারা খেলার নিয়মটা জানে। শুধু বাংলাদেশের সোশাল মিডিয়া গরম করছে ব্রাজিল সমর্থকরা। এমনকি বাংলাদেশের যত ফুটবল বিশ্লেষক আছে তারা কেউ বাজে পক্ষপাত রেফারিং হয়েছে বলেনি। কারণ নিয়মগুলো তারাও জানে। কেবল জামাত ও ইসলামিক সাইটগুলো মুসলিম দেশ হিসেবে মিশরের হয়ে ফটোকার্ডে ভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অপেক্ষা করুন, আজকের মধ্যে পৃথিবীর সব বড় বড় ফুটবলারের নামে মিথ্যা ফটোকার্ড বানিয়ে ছড়াবে যেখানে বলা হবে সবাই ফিফাকে জোচ্চোর বলেছে! শিবিরের সেই সব ফটোকার্ড আবার ‘খোমিনি লীগ’ শেয়ারও দিবে! গতকাল রাত থেকেই শিবিরের গুপ্ত সাইটগুলোর ‘মুসলিম মিশরকে ফিফার ষড়যন্ত্রমূলক’ ফটোকার্ডগুলো ধুমাইয়া লীগের সৈনিকরা পর্যন্ত শেয়ার দিয়েছে!
গতকালের ম্যাচ নিয়ে ব্রাজিলিয়ান গ্রেট রিভালদোর ইনস্টাগ্রামের পোস্টটি উল্লেখ করি। তিনি কাল পোস্টে লিখেছেন, “কী লড়াকু মনোভাব, জেতার কী প্রবল ইচ্ছা, কী লড়াই আর সবার কী অসাধারণ নৈপুণ্য! বিশ্বকাপে মাঠের ভেতরে একজন সমর্থক ঠিক এটাই দেখতে চায়”। তারপর মেসি সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, “কী অসাধারণ একজন খেলোয়াড়! ৩৯ বছর বয়সে, নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমেও তিনি আর্জেন্টিনার জার্সির প্রতি সেই একই আবেগ দেখিয়ে চলেছেন: উত্তেজনায় কাঁপছেন, লড়ছেন, কাঁদছেন এবং আরও একবার, নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করছেন”। রিভালদো একবারও কোথাও মিশরকে হারিয়ে দেয়া হয়েছে, ফুটবলের কলংকের দিন, ফিফা টাকা ছাড়া কিছু বুঝে না- এইসব কিছু বলেননি। বরং সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, যে যে-দলই করুক, ফুটবল লাভার হলে গ্রেট ম্যাচকে সম্মান জানাতে হবে। তিনি লিখেছেন, “আমি একজন ব্রাজিলিয়ান, আমি আমার দেশকে ভালোবাসি এবং আমি সবসময় আমাদের জাতীয় দলকে সমর্থন করব। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ফুটবলেরই একটি অংশ, কিন্তু আমি এটাও জানি যে কখন একটি দুর্দান্ত ম্যাচ দেখি এবং একটি দল মাঠে নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিচ্ছে, তা চিনতে ও প্রশংসা করতে হয়। এই ধরনের ম্যাচগুলোই ফুটবলকে মহান করে তোলে এবং বিশ্বকাপের যোগ্য। এই র্যা ঙ্কিংয়ের জন্য আর্জেন্টিনাকে অভিনন্দন”।
কি রিভালদো ফুটবল বুঝে না? দেখুন আমি এই লেখাটা আর্জেন্টিনার গতকালের ম্যাচ নিয়ে আসলে লিখতেই চাইনি। আমি কেবল লক্ষ্য করছিলাম কেমন করে বিশ্বকাপে একটা মুসলিম ব্রাদারহুড রাজনীতি মিশর ঢুকিয়ে দিলো। আমাদের মনে রাখতে হবে এই মিশরেই অবস্থিত আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় যেখান থেকে একবারের জন্যও একটি ফতোয়া জারি করানো যায়নি- যে অমুসলিমদের উপর সশস্ত্র জিহাদ ইসলাম সমর্থক করে না। মনে রাখতে হবে সাতদিনের আরব ইসরায়েল যুদ্ধ এই মিশরের নাসেনের কারণেই ঘটেছিল। জর্ডানের বাদশাহ কিছুতেই রাজি ছিল না এই যুদ্ধে। তিনি চেয়েছিলেন ইসরায়েল রাষ্ট্রকে মেনে নিয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি। ইসরায়েলও তখন এই সিদ্ধান্ত একপায়ে মেনে নিয়েছিল। কিন্তু নাসের জর্ডানকে থ্রেট দেয় তাদেরকে মুসলিম উম্মাহ থেকে বয়কট করা হবে। ফলে অনিচ্ছুক এই যুদ্ধে জর্ডান জড়ায় এবং জর্ডানের একটা অংশ হারাতে হয়। মিশরীয়রা কট্টর মুসলিম। মিশরের কপ্টিক খ্রিস্টানদের দিনের বেলা রেস্টুরেন্টে খাওয়ার জন্য প্রতিবছর গণহারে গ্রেফতার করা হয়! মিশরের খ্রিস্টানদের নিপীড়ন অবশ্য বিশ্ব মানবতার মার সন্তানদের কিছু যায় আসে না। মিশর প্রচীন সভ্যতার গর্ব। সেই গর্ব মিশরীয়দের। সেকথা মিশরের একমাত্র নোবেল পুরস্কাপ্রাপ্ত লেখক ও আরবী উপন্যাসের জনক নাগিব মাহফুজ তার লেখায় তুলে ধরলে তাকে একটা মুমিনবান্দা ছুরি মেরে মারাত্মক আহত করে এবং তার লেখালেখির ক্ষমতা চিরতরে বন্ধ করে দেয়। মিশর হচ্ছে পুরোনো জঙ্গি মুসলিম রাষ্ট্র যারা বিশ্বে ব্রাদারহুড রাজনীতিকে ছড়িয়ে দিতে কাজ করেছে। যখন মোহাম্মদ সালাহ ক্রিসমাসে তার পরিবার নিয়ে ক্রিসমাস ট্রি সাজিয়ে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়েছিল তখন এই মিশরীয়রাই সালাহকে প্রশ্ন করেছিল, সে কি আর মুসলমান আছে? নাকি ইসলাম থেকে বেরিয়ে গেছে?
ফুটবলের আইনকানুন নিয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না। কারণ কে আইনকানুন বুঝতে বসে আছে? যুক্তি তথ্য প্রমাণ তো কেউ চায় না। কেবলই অন্ধ দলদাসই বাঙ্গু চরিত্র। শুধু এটুকু বলতে চাই, ফিফা যদি সত্যিই কোন দলের প্রতি পক্ষপাত করতে চাইবে সেটা হবে ইউরোপের কোন দেশ। কারণ ফিফার আয়ের ৯৫ ভাগই আসে ইউরোপ থেকে। সেই টাকাতেই ফিফা সবাইকে দেয়। ইউরোপ ফুটবল খেলে বলেই ফুটবলের আজ এত অর্থ। আর্জেন্টিনাকে জিতিয়ে ফিফার কি লাভ? তারা পক্ষপাত করলে করবে ইউরোপকে। ইউরোপের কোন দেশ ফাইনালে না থাকলে ইউরোপে বিশ্বকাপের মজা শেষ হয়ে যাবে। ব্রাজিল আর্জেন্টিনা থেকে টাকা আসে না। উয়েফার এত টাকা যে তারা ফিফাকে হুমকি দেয় ফিফা থেকে বেরিয়ে যাবার! ফিফা বা আইসিসি কি তাহলে তাদের বাণিজ্য দেখে না? অবশ্যই দেখে। নইলে কি করে দুপুর ১২টায় খেলা ফেলায়! এই সময়ে পৃথিবীর কোথাও খেলা হয় না। কিন্তু ফিফা তার দর্শকদের ধরে রাখার জন্যই এটা করে। ফিফা চায় জায়েন্টরা সবাই সেমি পর্যন্ত খেলুক। কিন্তু জার্মানি আগেভাগে বিদায় নিলে তো ফিফার কিছু নেই। আসলে এইসব অভিযোগ বাংলাদেশ ছাড়া আর কোথাও নেই। খেলাকে কেন্দ্র করে খেলা ছাড়া এখানে সব কিছুই হয়। আইসিসি চোর, আইসিসি ভারতকে সুবিধা দেয়- কোন রকম তথ্য প্রমাণ ছাড়াই বছরের পর বছর আমরা বলে আসছি। আমাদের কাজই না পারলেই কমিটির টিম, শালা চোর! ইচ্ছা করে হারায় দিছে- এগুলো আমাদের জাতিগত চরিত্র।
যাই হোক, আমি মনে করি ফিফার উচিত মিশরের বিরুদ্ধে খেলার পরিবেশ নষ্ট করা ও মাঠে বিশেষ রাজনীতি নিয়ে আসার জন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।
লেখক -সুষুপ্ত পাঠক
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au