মুক্তিপণ নিতে এসে আটক এনসিপির দুই নেতা, ছাড়াতে গিয়ে গ্রেপ্তার আরও তিন
মেলবোর্ন, ৯ জুলাই- দিনাজপুরে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির একটি ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতাসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অপহৃত এক ব্যক্তির…
মেলবোর্ন, ৯ জুলাই- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে দেশটির আর্থিক অপরাধ তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। অর্থ পাচার ও দলীয় তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগে পরিচালিত তদন্তের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইডির দাবি, জব্দ করা তিনটি হিসাবে মোট ৪৪০ কোটি ৪২ লাখ টাকা জমা ছিল।
বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইডি জানায়, এইচডিএফসি ব্যাংকে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি হিসাব থেকে বড় অঙ্কের সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব লেনদেন অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তদন্তের অংশ হিসেবে দিল্লির ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়নের পাঁচটি স্থানে অভিযান চালায় ইডি। এসব স্থাপনা বিমান চলাচল খাতের প্রতিষ্ঠান ‘কেয়ারওয়েল গ্রুপ অব কোম্পানিজ’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইডির প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাংক হিসাব থেকে কেয়ারওয়েল এভিয়েশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকটি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়। পরে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন গঠিত একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের হিসাবে আরও প্রায় ৮২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা পাঠানো হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, এই অর্থের একটি বড় অংশ ব্যবহার করে একটি এমব্রায়ার লিগ্যাসি ৬০০ বিমান এবং একটি অগাস্টা ১০৯ এসপি হেলিকপ্টার কেনা হয়। এই দুই আকাশযান কিনতে মোট প্রায় ১১২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছে ইডি।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, অগাস্টা হেলিকপ্টার কেনার ক্ষেত্রে কিছু বিদেশি তহবিলও ব্যবহার করা হয়েছে। তবে অর্থের বড় অংশই সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাংক হিসাব থেকে এসেছে বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। এখন বিদেশি অর্থের উৎস, লেনদেনের বৈধতা এবং কোনো আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইডির অভিযোগ, বিমান ও হেলিকপ্টার কেনার পর সেগুলো আবার তৃণমূল কংগ্রেসের কাছেই ভাড়ায় দেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় ‘ব্যবহার বাবদ’ বিপুল অঙ্কের অর্থ আবারও স্থানান্তর করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, পুরো আর্থিক কাঠামোটি অত্যন্ত সন্দেহজনক এবং প্রকৃত লেনদেন ও সুবিধাভোগীদের পরিচয় গোপন রাখার উদ্দেশ্যে এটি তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে।
ইডি জানিয়েছে, অর্থের উৎস, তহবিলের ব্যবহার, বিদেশি অর্থায়নের বিষয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হওয়া আর্থিক লেনদেনের প্রতিটি দিক বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au