ভ্যালেন্সিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা
লা লিগায় দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থাকা ভ্যালেন্সিয়াকে তাদেরই মাঠে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টানা জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে হ্যান্সি ফ্লিকের…
মেলবোর্ন, ৮ জুলাই- টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের জনজীবন। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি, আবার কখনো মুষলধারে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নগরের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটেছে। বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধসের আশঙ্কা এবং জনদুর্ভোগের মধ্যে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী আরও অন্তত দুই দিন চট্টগ্রামে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বর্ষণের আওতায় পড়ে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবদুল হামিদ জানান, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বর্তমান আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী অন্তত দুই দিন একই ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
কয়েক দিনের এই বিরামহীন বর্ষণে নগরজীবন অনেকটাই থমকে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। অফিসগামী মানুষকে ছাতা ও রেইনকোটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সড়কে যানবাহনের গতি কমে গেছে, ফুটপাতের দোকানগুলোতেও ক্রেতার উপস্থিতি কমে এসেছে। কখন আবার প্রবল বর্ষণ শুরু হবে, সেই শঙ্কায় নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়ও প্রভাব পড়েছে।
টানা বৃষ্টির কারণে শিক্ষা কার্যক্রমেও প্রভাব পড়েছে। বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলার বুধবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এতে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অবিরাম বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়ঘেঁষা বসতিগুলোতে বসবাসকারী মানুষকে নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে স্থানীয় প্রশাসন। এরই মধ্যে মঙ্গলবার দেয়াল ও পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি এবং কক্সবাজারে মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ভারী বর্ষণের ঝুঁকি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
মঙ্গলবারের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তবে বৃষ্টি কিছুটা কমে আসার পর অধিকাংশ এলাকার পানি দ্রুত নেমে গেছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের দাবি, খাল, নালা ও জলপ্রবাহের পথ পরিষ্কার রাখার কারণে দীর্ঘ সময় পানি আটকে থাকেনি।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে বর্ষা মৌসুমের মধ্যভাগ চলছে। এ সময়ে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র বায়ুর কারণে ঘন ঘন মেঘের সৃষ্টি হয় এবং দফায় দফায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়। মৌসুমি বায়ু এখনো সক্রিয় থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা নেই।
ফলে আগামী কয়েক দিন চট্টগ্রামবাসীকে ভারী বর্ষণ, জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ধসের সম্ভাবনা মাথায় রেখে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষ, নদী ও খালের তীরবর্তী এলাকা এবং নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au