আগে ‘শিবির’, এখন ‘ছাত্রলীগ’: বদলায়নি ট্যাগিংয়ের রাজনীতি
বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিক দল, সংগঠন বা মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত করে চিহ্নিত করার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতার সমীকরণ বদলালেও এই…
মেলবোর্ন, ১৫ জুলাই- চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে গুরুতর ত্রুটি ও অসঙ্গতির ঘটনায় প্রশ্নপত্র পরিশোধনের দায়িত্বে থাকা চার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেট। একই সঙ্গে ভুল থাকা দুটি প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
নোটিশে বলা হয়েছে, গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র পরীক্ষার ২০২৬ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রের সৃজনশীল অংশের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে গুরুতর ত্রুটি ও অসঙ্গতি ছিল। এ ধরনের ভুলের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা চরম মানসিক চাপের মধ্যে পড়ে এবং শিক্ষা বোর্ডের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে।
বোর্ডের মতে, প্রশ্নপত্র পরিশোধনের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের এমন অবহেলা পেশাগত দায়িত্ব পালনে গুরুতর গাফিলতির শামিল। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
শোকজপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান, বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক কাজী জুনায়েদ আল আমিন, এমসি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোছাদ্দেক হোসেন খান এবং সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকায় ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। প্রশ্নপত্র মডারেশনের কাজ অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছিল এবং প্রশ্ন প্রণয়নের প্রক্রিয়া সাধারণত দুই বছর আগে শুরু হয়। ফলে বর্তমান প্রশাসনের পক্ষে নতুন করে প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি। এরপরও ভুল শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বন্যা ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই গত ১৩ জুলাই এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা চলাকালে প্রশ্নপত্রের দুটি সৃজনশীল প্রশ্নে অসঙ্গতি ধরা পড়লে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে সিলেট শিক্ষা বোর্ড।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au