বৃষ্টি-বন্যার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা, সমালোচনার মুখে শিক্ষামন্ত্রী
মেলবোর্ন, ১৪ জুলাই- টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যার মধ্যেই চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন এলাকার পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। কোথাও…
মেলবোর্ন, ১৪ জুলাই- হবিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বৃন্দাবন সরকারি কলেজের কেন্দ্রীয় মন্দিরের সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ (এসভিএস) হবিগঞ্জ জেলা শাখা ও বৃন্দাবন সরকারি কলেজ শাখার উদ্যোগ, কলেজ প্রশাসনের সহযোগিতা এবং হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জি কে গউছের সার্বিক সহায়তায় দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই সংস্কারকাজ শেষ হয়।
গত ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে সংস্কারকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর কলেজের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনার সংস্কার নয়, বরং ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রকে পুনরুজ্জীবিত করার পদক্ষেপ।
বৃন্দাবন সরকারি কলেজের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দানবীর বৃন্দাবন চন্দ্র দাসের নাম। ১৯৩১ সালের ১ জুলাই হবিগঞ্জ শহরের রাজনগরে ৬ দশমিক ১০ একর জমির ওপর শ্রীভূমি অঞ্চলের এই বিদ্যাপীঠের যাত্রা শুরু হয় তার আর্থিক সহযোগিতায়। বানিয়াচং উপজেলার বিথঙ্গল গ্রামের সন্তান বৃন্দাবন চন্দ্র দাস ছিলেন একজন বিশিষ্ট সমাজহিতৈষী ও দানশীল ব্যক্তি।
প্রতিষ্ঠার শুরুতে কলেজটির নাম ছিল ‘হবিগঞ্জ কলেজ’। পরিত্যক্ত মনোহর বাজার এলাকায় (বর্তমান কলেজ কোয়ার্টার) বাঁশের তৈরি একটি ঘর ও ছোট একটি পাকা ভবনে মাত্র ৩৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে এর কার্যক্রম শুরু হয়। তৎকালীন সময়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেতে প্রয়োজন ছিল ১০ হাজার রুপির তহবিল। আর্থিক সংকটে কলেজের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে দানবীর বৃন্দাবন চন্দ্র দাস ১০ হাজার রুপি অনুদান দেন এবং কলেজটি স্বীকৃতি লাভ করে।

বৃন্দাবন সরকারি কলেজের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দানবীর বৃন্দাবন চন্দ্র দাসের নাম। ছবিঃ সংগৃহীত
পরবর্তীতে তার নাম অনুসারেই কলেজটির নামকরণ করা হয় বৃন্দাবন সরকারি কলেজ। কলেজ পরিচালনার জন্য তিনি জমিও দান করেন। শিক্ষা বিস্তারে তার অবদান আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।
বৃন্দাবন সরকারি কলেজের কেন্দ্রীয় মন্দির সংস্কার সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির অংশ ছিল। সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই মন্দির সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ (এসভিএস)। গত ৪ মে ২০২৬ তারিখে হবিগঞ্জ টাউন হল অডিটোরিয়ামে এসভিএস হবিগঞ্জ জেলা শাখা আয়োজিত বিদ্যার্থী বৃত্তি পরীক্ষা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সচেতক জি কে গউছ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের মন্দির সংস্কারের জন্য সরকারি তহবিল থেকে ২ লাখ টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন।
এরপর এসভিএস হবিগঞ্জ জেলা শাখা এবং এসভিএস বৃন্দাবন সরকারি কলেজ শাখা কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে সংস্কারকাজ বাস্তবায়নে কাজ করে। কলেজ প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত মন্দিরের সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়।
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের নেতৃবৃন্দ জানান, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চার পরিবেশ তৈরিতে সংগঠনটি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। বৃন্দাবন সরকারি কলেজের মন্দির সংস্কার তারই একটি ধারাবাহিক উদ্যোগ।
তারা বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

প্রায় শতবর্ষের পুরোনো বৃন্দাবন সরকারি কলেজ শুধু হবিগঞ্জ নয়, বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দানবীর বৃন্দাবন চন্দ্র দাসের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্দির সংস্কারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au