পদত্যাগ করলেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী
মেলবোর্ন, ১৫ জুলাই- ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো পদত্যাগ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অনুরোধে মাত্র এক বছর দায়িত্ব পালনের পর তিনি পদ ছেড়ে দেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই)…
মেলবোর্ন, ১৪ জুলাই- টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যার মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানী ঢাকাসহ কুমিল্লা, বগুড়া, ময়মনসিংহ ও বরিশালে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। কোথাও মহাসড়ক অবরোধ করা হয়, কোথাও শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল অমানবিক। পাশাপাশি এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে একাধিক ভুল এবং প্রশ্নের অতিরিক্ত কঠিন মান নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। তাদের দাবি, অভিন্ন প্রশ্নপত্র অতীতের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার মানের সঙ্গে তুলনীয়।
রাজধানীতে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বেলা পৌনে তিনটার দিকে শত শত শিক্ষার্থী বকশীবাজারে শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী শিক্ষা বোর্ডের ফটকের দিকে ইট নিক্ষেপ করেন এবং গেটে ধাক্কাধাক্কি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে মিরপুর সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে ওই এলাকায় এক ঘণ্টার বেশি সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ঢাকা কলেজের দিকে এবং আরেকটি অংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অভিমুখে রওনা হন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চত্বরের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের এগোতে বাধা দেয়। পরে তারা নীলক্ষেত ও পলাশী মোড় হয়ে শিক্ষা বোর্ডের সামনে গিয়ে জড়ো হন।
আন্দোলনে ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা আইডিয়াল কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, লালমাটিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিএএফ শাহীন কলেজসহ রাজধানীর অন্তত ১২ থেকে ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা “দফা এক, দাবি এক, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ”, “আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম” এবং “শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মানতে হবে”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত বলেন, পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় আটটি প্রশ্নের মধ্যে দুটি প্রশ্নে ভুল ছিল। বাকি প্রশ্নগুলোও অত্যন্ত কঠিন ছিল। তার ভাষায়, “বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার মতো প্রশ্ন করা হয়েছে। আমরা ফেল করলে তার দায় কি শিক্ষামন্ত্রী নেবেন?”
ঢাকা আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী আহনাফ মুনজি বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি। অনেকে রাস্তায় পড়ে গেছে, কারও প্রবেশপত্র ভিজে নষ্ট হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার।
রাজধানীর পাশাপাশি উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কও অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বরিশালেও দুপুরের দিকে শিক্ষা বোর্ডের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
কুমিল্লায় ‘কুমিল্লার সচেতন শিক্ষার্থী সমাজ’ ব্যানারে কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে যান। তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, প্রশ্নপত্রের ত্রুটি তদন্ত এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের অবসানের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
ময়মনসিংহ নগরের টাউন হল এলাকায় শিক্ষার্থীরা ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আসাদুজ্জামান শাকিল জানান, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
অন্যদিকে বগুড়ায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও শিক্ষাসচিবের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা সাতমাথা এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে সমাবেশ করেন। সেখানে তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
এদিকে পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার রব্বানী হোসেন জানান, রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা সরে যাওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
দুর্যোগের মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন এবং প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে তৈরি হওয়া ক্ষোভ এখন রাজধানী ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করবে শিক্ষা প্রশাসন, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au