মেলবোর্ন, ১৫ জুলাই- শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ, এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য নতুন করে পরীক্ষার দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব থেকে মিছিল নিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের পাশের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। একই সময়ে টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মহাসড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিয়ে জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে প্রথমে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সেখান থেকে আবার সায়েন্সল্যাবে ফিরে অবস্থান নিলে ওই এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
একই দিনে উত্তরা বিএনএস সেন্টারের সামনেও বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন। এতে বিমানবন্দরমুখী সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
অন্যদিকে টাঙ্গাইলে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। দুপুর দেড়টা থেকে নগরজালফৈ এলাকায় শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে কুমুদিনী সরকারি মহিলা কলেজ, মাহমুদুল হাসান আদর্শ মহাবিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। মহাসড়কের উত্তরবঙ্গগামী লেনে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়, যার ফলে শত শত যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ভয়াবহ বন্যা ও টানা বর্ষণের মধ্যেও পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনেক পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। পাশাপাশি পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নে ত্রুটি এবং শিক্ষামন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য তাদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষা আয়োজন, চলমান পরীক্ষা সাময়িক স্থগিত এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীন মিয়া শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ তুলে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত স্মারকলিপি দেওয়ার আহ্বান জানান। তার আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে তাদের দাবি-সংবলিত স্মারকলিপি জমা দেন।
এদিকে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, সারা দেশে কেবল একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে বন্যার পানি ছিল। পাশাপাশি পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে ত্রুটির বিষয়টি স্বীকার করে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বন্যা ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে এরই মধ্যে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা চলমান রাখার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে।