মেলবোর্ন, ১৫ জুলাই- চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। ভয়াবহ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ৪৪ হাজার ৪০০টি ঘরবাড়ি। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। কোথাও পাহাড়ধস, কোথাও নদীর পানি বৃদ্ধি এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি অনেক এলাকায় কমতে শুরু করলেও এখনও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র উঠে আসছে।
জেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজার জেলায়। সেখানে বন্যা ও পাহাড়ধসে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ২৪ জন এবং এখনও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। চট্টগ্রাম জেলায় মারা গেছেন ১৫ জন, আহত হয়েছেন ১২ জন। বান্দরবান জেলায় প্রাণ হারিয়েছেন ছয়জন এবং আহত হয়েছেন দুজন। রাঙামাটি জেলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলায় একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বন্যার কারণে পাঁচ জেলায় মোট ৪৪ হাজার ৪০০টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বান্দরবান জেলা, যেখানে ১৬ হাজার ৩৭৬টি ঘরবাড়ি ক্ষতির মুখে পড়েছে। চট্টগ্রাম জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫ হাজার ২২৩টি ঘর, কক্সবাজারে ১১ হাজার ২৭৮টি, খাগড়াছড়িতে এক হাজার ৪০টি এবং রাঙামাটিতে ৪৮৩টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্গত মানুষের সহায়তায় সরকারিভাবে পাঁচ জেলায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রাম জেলায় ৭৯৫ টন চাল এবং ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। কক্সবাজারে দেওয়া হয়েছে ২৫৬ টন চাল, ২০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, সাত হাজার ৮৩০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং পাঁচ লাখ টাকার সমপরিমাণ রান্না করা খাবার, যা চার হাজার ৫০০ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। রাঙামাটি জেলায় ২৯৫ টন চাল ও ৩৫ লাখ টাকা, খাগড়াছড়িতে ৩০০ টন চাল ও ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং বান্দরবানে ৫৫ টন চাল, চার লাখ টাকা ও দুই হাজার ৮৫০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে।
সরকারের কাছে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে। চট্টগ্রামে ৪০৫ টন চাল ও ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা, কক্সবাজারে ৫৮ টন চাল, দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা, এক হাজার ৬৭৮টি শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং সাত বান্ডিল ঢেউটিন সংরক্ষিত রয়েছে। রাঙামাটিতে ২০৫ টন চাল ও ১০ লাখ টাকা, খাগড়াছড়িতে ১০০ টন চাল ও ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং বান্দরবানে ১৭৬ টন চাল, দুই লাখ টাকা ও ৬২০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট মজুত রয়েছে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন জানিয়েছেন, গত দুই দিন উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাঁচ জেলার অধিকাংশ এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে যেতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বন্যার পানি পুরোপুরি সরে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে অধিকাংশ মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে এবং বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।