ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৫ জুলাই- ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো পদত্যাগ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অনুরোধে মাত্র এক বছর দায়িত্ব পালনের পর তিনি পদ ছেড়ে দেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দেশটির পার্লামেন্টে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এর মধ্য দিয়ে ইউক্রেনের পুরো মন্ত্রিসভাও সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী পদত্যাগ করেছে। রাজনৈতিক কৌশলে পরিবর্তন আনার অংশ হিসেবে সরকারে নতুন নেতৃত্ব আনার উদ্যোগ নিয়েছে জেলেনস্কি প্রশাসন।
বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব ছাড়ার আগে পার্লামেন্টে দেওয়া বিদায়ী বক্তব্যে ৪০ বছর বয়সী অর্থনীতিবিদ ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো বলেন, গত এক বছরের প্রতিটি দিনই ছিল কঠিন সিদ্ধান্ত ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার সময়। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় যাদের আস্থা ও সহযোগিতা পেয়েছেন, তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ। তার ভাষায়, তিনি সবসময় বিশ্বাস করেছেন যে নেতৃত্বের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় কাজের ফলাফলের মাধ্যমে।
গত বছর উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির একটি আলোচিত ঘটনার পর ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কোকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সে সময় সরকারের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা তৈরি হলেও সমালোচকদের অভিযোগ, সরকারের অভ্যন্তরে দুর্নীতি দমনে তিনি প্রত্যাশিত কঠোরতা দেখাতে পারেননি। বিরোধী দলগুলোর দাবি, দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সামনে রেখে রাজনৈতিক কৌশলে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তার মতে, নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারে নতুন নেতৃত্ব ও নতুন উদ্যম দরকার। যদিও মন্ত্রিসভার পুনর্গঠন বা নতুন সরকারের কাঠামো নিয়ে তিনি এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি।
বিদায়ী সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন বিরোধী দল হোলোসের আইনপ্রণেতা ইয়ারোস্লাভ জেলেজনিয়াক। তিনি বলেন, সরকার প্রতিদিন ফলাফল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন ও উপস্থাপনা হলেও প্রায় প্রতিদিনই নতুন কোনো দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। তার মতে, সরকারের কর্মকাণ্ড জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কোম্পানির প্রধান সেরহি কোরেৎস্কির নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান জ্বালানিমন্ত্রী দেনিস শ্মিহাল এবং বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভের নামও সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হচ্ছে।
এদিকে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে সরকার পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন দীর্ঘপাল্লার হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও রসদ সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে অভিযান জোরদার করেছে। একই সময়ে দেশের যুদ্ধকালীন অর্থনীতি সচল রাখা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা এবং রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক অবকাঠামোর পুনর্গঠনের দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের মধ্যেই সরকারে এই পরিবর্তন ইউক্রেনের প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক কৌশলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। এখন নজর থাকবে, নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা যুদ্ধ, অর্থনীতি ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে কী ধরনের নীতি গ্রহণ করে।
সুত্রঃ রয়টার্স