বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে বিএসপিসির নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ফর পূজা অ্যান্ড কালচার ইনকরপোরেটেড (BSPC)-এর বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) ২০২৬ অনুষ্ঠিত…
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষার্থী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভের পর এবার সংসদ চত্বরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছেন বিরোধী সংসদ সদস্যরা। বুধবার সকালে পার্লামেন্ট ভবনের সামনে কংগ্রেসের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে একাধিক বিরোধী দল অংশ নেয়, যার ফলে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের সংসদ সদস্যরা কালো পোশাক পরে সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন এবং পরে প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের সঙ্গে সমাজবাদী পার্টিসহ (এসপি) কয়েকটি বিরোধী দলের সংসদ সদস্যও যোগ দেন। আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাতে সমাজবাদী পার্টির সদস্যরা কালো স্কার্ফ পরিধান করেন।
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, নিট পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়ম এবং রাজধানী দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনায় সরকার জবাবদিহি এড়িয়ে যাচ্ছে। এ কারণে তারা সংসদে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা এবং দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করেছেন।
কংগ্রেসের সংসদ সদস্য পবন খেরা বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের ঘটনায় সরকারের কোনো নৈতিক অধিকার নেই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার। তার ভাষায়, “প্রথমে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। এত শিক্ষার্থীর ওপর লাঠিচার্জের পর আলোচনা নয়, আগে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।”
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে আন্দোলনকারীদের সমর্থনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। সেখানে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও অংশ নেন। পরে দিল্লি পুলিশ রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদবসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে। কয়েক ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দেয়।
বিরোধী দলগুলো সংসদের ভেতরেও নিট পরীক্ষার অনিয়ম, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষার্থী আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অবিলম্বে আলোচনা চেয়ে আসছে। তারা দাবি করছে, শিক্ষার্থীদের দাবিকে উপেক্ষা করে সরকার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে এনডিটিভির বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিরোধী দলগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সংসদের উভয় কক্ষে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। সব দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর স্পিকার কোন নিয়মে আলোচনা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার্থী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই সংকট এখন জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক আন্দোলন এবং সংসদের ভেতর-বাইরে সরকারের ওপর বাড়তে থাকা চাপ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে সরকার কী পদক্ষেপ নেয় এবং সংসদীয় আলোচনায় কী সিদ্ধান্ত আসে, সেদিকেই নজর থাকবে দেশটির রাজনৈতিক মহলের।
সূত্র: এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au