পেলেটে ঝাঁঝরা মুখ, তবু অনুশোচনা নেই: হাসপাতাল থেকেই যন্তর মন্তরে ফেরার ঘোষণা
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় আহত হয়েও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন ২৫ বছর…
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শিরোপা হারানোর পর প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ফাইনালে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়লেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি সতীর্থ, সমর্থক এবং জাতীয় দলের প্রতি নিজের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেছেন।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমে রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের সঙ্গে তর্ক করায় হলুদ কার্ড দেখেন এনজো ফার্নান্দেজ। পরে স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির ওপর বিপজ্জনক ট্যাকলের কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। এর ফলে অতিরিক্ত সময়ে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত সময়ের ১০৯তম মিনিটে স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোল করেন ফেরান তোরেস। সেই গোলেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় আর্জেন্টিনার।
ম্যাচ চলাকালে বিবিসির ধারাভাষ্যে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার এনজো ফার্নান্দেজের ট্যাকলকে ‘অপরিণামদর্শী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, হলুদ কার্ড দেখার পর এমন ট্যাকল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি আর্জেন্টিনার জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। শেষ পর্যন্ত তার সেই মন্তব্যই বাস্তবে প্রতিফলিত হয়।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি না হলেও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন এনজো ফার্নান্দেজ। তিনি লেখেন, সময়ের সঙ্গে বোঝা যায় একটি ফলাফলের চেয়েও বড় কিছু রয়েছে। বছরের পর বছর এই দলটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে। জয় নয়, দেশের জার্সির জন্য সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করাই সবচেয়ে বড় বিষয়। তিনি আরও বলেন, আর্জেন্টিনার জার্সি পরা তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ সম্মান এবং ভবিষ্যতেও দেশের হয়ে প্রতিবার মাঠে নামলে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেবেন।
সমর্থকদের উদ্দেশে এনজো বলেন, বিশ্বের যেখানেই খেলতে গেছেন, আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা সবসময় তাদের আপনজনের মতো অনুভব করিয়েছেন। প্রতিটি ম্যাচে নিঃস্বার্থ সমর্থনের জন্য তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এদিকে ফাইনাল শেষে মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে লিয়েন্দ্রো পারেদেস, নাহুয়েল মোলিনা এবং আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার আচরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ম্যাচ-পরবর্তী এসব ঘটনার তদন্তে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি ইতোমধ্যে একজন শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিষয়ক প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে।
ফিফা জানিয়েছে, ম্যাচ কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন পর্যালোচনার ভিত্তিতে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর সম্ভাব্য শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর শৃঙ্খলা কমিটি পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে। এছাড়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের প্রদর্শিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ সংক্রান্ত ব্যানারের বিষয়েও ফিফা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে। তবে ওই ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au