বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ডের পর মুখ খুললেন এনজো ফার্নান্দেজ
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শিরোপা হারানোর পর প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ফাইনালে লাল কার্ড দেখে মাঠ…
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় আহত হয়েও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন ২৫ বছর বয়সী শেখ ইরশাদ মনসুরি। পেলেট গানের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও সুস্থ হয়ে আবারও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এ ঘটনাকে ঘিরে ভারতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের জবলপুর জেলার বাসিন্দা শেখ ইরশাদ মনসুরি বর্তমানে গুরুগ্রামের একটি প্রতিষ্ঠানে অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। গত ২০ জুলাই সোনম ওয়াংচুক এবং ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে অনুষ্ঠিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি যন্তর মন্তরে যান। আন্দোলনকারীদের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণভাবে শিক্ষার অধিকার ও শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করছিলেন। তবে কর্মসূচি চলাকালে দিল্লি পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে বলপ্রয়োগ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের কাছে হাতজোড় করে বলপ্রয়োগ না করার অনুরোধ করছিলেন ইরশাদ। ঠিক সেই সময় তার বাঁ চোখের ওপর আঘাত লাগে এবং মুহূর্তের মধ্যেই মুখ, থুতনি, গলা ও বুকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে তাকে দ্রুত লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত করেন, তিনি পেলেট গানের আঘাতে আহত হয়েছেন।
চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইরশাদের গলা ও চোখে দুটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শরীরে থাকা পেলেটের অংশ বের করে ফেলা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত এবং তার দৃষ্টিশক্তি বা শারীরিক সক্ষমতার স্থায়ী কোনো ক্ষতি হয়নি।
যদিও দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে, অভিযানের সময় তারা কোনো পেলেট গান ব্যবহার করেনি এবং তাদের অস্ত্রাগারেও এমন অস্ত্র নেই। তবে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের অস্ত্রভাণ্ডারে এখনো পেলেট গান রয়েছে বলে জানা গেছে। অতীতে জম্মু ও কাশ্মীরে ভিড় নিয়ন্ত্রণে এই অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনায় বহু মানুষ গুরুতর আহত ও দৃষ্টিশক্তি হারানোর অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৬ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নিরাপত্তা বাহিনীকে পেলেট গান ব্যবহারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছিল এবং পরবর্তীতে সরকার জানায়, এটি কেবল চরম পরিস্থিতিতে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
পরিবার জানিয়েছে, আন্দোলনে অংশ নিতে যাওয়ার বিষয়টি ইরশাদ আগে কাউকে জানাননি। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তিনি বাবাকেও দেখতে আসতে নিষেধ করেন, যাতে তার শারীরিক অবস্থা দেখে বাবা মানসিকভাবে ভেঙে না পড়েন।
হাসপাতাল থেকে ইরশাদ বলেন, চিকিৎসকেরা প্রথমে ভেবেছিলেন তার শরীরে রাবারজাতীয় কিছু লেগেছে। পরে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটি সীসা মিশ্রিত রাবারজাতীয় পেলেট ছিল। দুই দফা অস্ত্রোপচারের পর তিনি এখন সুস্থ হয়ে উঠছেন।
ঘটনার পরও নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেননি এই তরুণ। তার ভাষায়, এই আন্দোলন শুধু ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থের জন্য নয়, দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে। তিনি বলেন, চাকরি পাওয়াই জীবনের শেষ লক্ষ্য নয়। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া জরুরি। তাই সুস্থ হয়ে আবারও যন্তর মন্তরের আন্দোলনে যোগ দেবেন বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
সূত্র: দ্য প্রিন্ট
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au