প্রশ্নফাঁস রোধে আরও কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা মোদির
মেলবোর্ন, ২৪ জুলাই: ভারতে মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি…
ভারতের মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে টানা ২৬ দিন অনশনের পর অবশেষে অনশন ভেঙেছেন সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। তবে আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচার না হওয়া পর্যন্ত দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সোনম ওয়াংচুক জানান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা (জে.পি. নাড্ডা), ড. জিতেন্দ্র সিং এবং লেহ-লাদাখ অ্যাপেক্স বডির জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতে তিনি অনশন ভেঙেছেন। তিনি জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬৫ জন সংসদ সদস্য ব্যক্তিগতভাবে কিংবা চিঠির মাধ্যমে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানান। দীর্ঘ আলোচনা এবং দেশে সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আলোচনায় কী বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, তা শিগগিরই একটি ভিডিও বার্তায় বিস্তারিত জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন।
সোনম ওয়াংচুক দেশবাসীর প্রতি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই যেন সহিংসতার ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল থাকতে হবে।
গত মে মাসে অনুষ্ঠিত মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। তাদের দাবি, প্রশ্নফাঁসের কারণে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নষ্ট হয়েছে, ব্যাপক অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং মানসিক চাপে কয়েকজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যাও করেছেন।
আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া স্বঘোষিত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে সোনম ওয়াংচুকের ত্যাগের প্রশংসা করে বলেন, এই আত্মত্যাগ কখনোই বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। তিনি ঘোষণা দেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

ছবি: সংগৃহীত
এদিকে প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ দূর করতে এবং দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর এটিই তার সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ছাত্র ও যুব আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। বিরোধী দলগুলোও আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং সংসদের চলমান বর্ষাকালীন অধিবেশনেও বিষয়টি নিয়ে সরকারকে চাপে রাখছে।
অনশন ভাঙার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোনম ওয়াংচুককে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি অনশনের কারণে হারানো শারীরিক শক্তি ও ওজন দ্রুত পুনরুদ্ধারের পরামর্শও দিয়েছেন।
অন্যদিকে, সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে আন্দোলনকারীরা শুক্রবার দেশব্যাপী নতুন বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার তাদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় হাজারো আন্দোলনকারী জড়ো হলে পুরো এলাকা সরকারবিরোধী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকার ১৬টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও স্থগিত করা হয়। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল ও মোবাইলভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
এ ছাড়া দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা কনট প্লেসের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয় স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতি। ফলে রাজধানীজুড়ে আন্দোলনের প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সূত্র: রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au