ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের উপস্থিতি কেন ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ব্রিকস সম্মেলন ২০২৬। গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।…
মেলবোর্ন, ২৫ জুলাই: ভারতের নিট (এনইইটি) প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে টানা ২৬ দিন অনশনে থাকার পর সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙলেও তা ঘিরে দেশজুড়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি পূরণ হওয়ার আগেই কেন তিনি অনশন প্রত্যাহার করলেন। এমনকি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তার গোপন সমঝোতা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ওয়াংচুক।
শুক্রবার রাতে হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সোনম ওয়াংচুক বলেন, টানা ২৬ দিন অনশনের পরও যদি তাকে নিজের আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে হয়, তবে সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি জানান, দীর্ঘ অনশন ও শারীরিক ধকলের কারণে তার শরীর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার পেশি ক্ষয়ে গেছে, অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও মস্তিষ্কেও ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া এই সময়ে তার ওজন প্রায় ১১ কেজি কমে গেছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই অনেক মানুষ তাকে ফোন করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন সমালোচনামূলক পোস্ট দেখান। তখনই তিনি জানতে পারেন, তার অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন ও অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে।
সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার অভিযোগ নাকচ করে সোনম ওয়াংচুক বলেন, যদি সত্যিই সমঝোতা করার ইচ্ছা থাকত, তাহলে ২৬ দিন অনশনে থাকার প্রয়োজন হতো না। তিনি বলেন, আরামদায়ক পরিবেশে বসেই তা করা সম্ভব ছিল। দিল্লির তীব্র গরমে রাস্তায় অনাহারে থেকে নিজের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলার কোনো প্রয়োজন পড়ত না।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, সোনম ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানালেও আন্দোলনের মূল দাবিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। দলের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, দীর্ঘ অনশনের কারণে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সংগঠনটিও উদ্বিগ্ন ছিল এবং তার স্বাস্থ্যগত কারণেই অনশন শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আন্দোলনের দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।
সিজেপি স্পষ্ট করেছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সংগঠনটির প্রতিনিধিদের একাধিক দফা বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে নিট প্রশ্নফাঁস রোধে নতুন আইন, কঠোর শাস্তির বিধান এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
তবে ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের উপস্থিতি নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, এই ঘটনাই সরকারের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত দেয়। যদিও সোনম ওয়াংচুক ও সিজেপি উভয়েই এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।
বর্তমানে দিল্লিতে সিজেপির অবস্থান-বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও কর্মসূচি চলতে থাকবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au