১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা নাসরিন
মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই: প্রায় ১৯ বছর পর আগামী ১ আগস্ট কলকাতায় ফিরছেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখক তসলিমা নাসরিন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে আবারও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা,…
মেলবোর্ন, ২৬ জুলাই: ঢাকায় জগন্নাথদেবের রথযাত্রা চলাকালে একটি ছাতার নিচে লুকিয়ে রাখা একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) সদৃশ বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদমাধ্যম Organiser-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ঢাকার রথযাত্রায় বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য একটি সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ঘটনায় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঢাকার মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের কাছে রথযাত্রার শোভাযাত্রা চলাকালে ঘটে। বিপুল সংখ্যক ভক্ত সেখানে সমবেত হয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করছিলেন। এ সময় একটি ছাতার নিচে লুকিয়ে রাখা বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বিস্ফোরকটিতে ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক সার্কিট সংযুক্ত ছিল এবং এটি দূর থেকে রিমোটের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটানোর উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সময়মতো বিস্ফোরকটি শনাক্ত হওয়ায় সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বোমা নিষ্ক্রিয়করণ কার্যক্রম চলাকালে একজন ৩৩ বছর বয়সী পথচারী আহত হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
Organiser–এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, হামলা ও ভয়ভীতির নানা ঘটনার কারণে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিভিন্ন সংগঠনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের প্রথম কয়েক মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে একাধিক হামলা, হত্যাকাণ্ড এবং জমি দখলের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে।
এছাড়া প্রতিবেদনে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সূত্র উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া আইইডির মধ্যে প্রায় ১ থেকে ১.৫ কেজি সালফার একটি ধাতব পাইপে ভরা ছিল এবং তার সঙ্গে অসংখ্য ছোট লোহার বল সংযুক্ত ছিল। এই তথ্য প্রকাশের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, বিস্ফোরকটি কারা সেখানে রেখেছিল এবং এর পেছনে কারা জড়িত—সে বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই ওটিএন বাংলায় “বাংলাদেশে রথযাত্রা ঘিরে নাশকতার পরিকল্পনা করছে উগ্রবাদী গোষ্ঠী” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়। সাম্প্রতিক এই বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় সেই আশঙ্কা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
জানা যায়, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সতর্কতা, পেশাদারিত্ব এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী বিশেষজ্ঞ দলের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনে উদ্ধার হওয়া দুটি তাজা টাইম বোমা নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যায় রথযাত্রা চলাকালে স্টেশনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে দায়িত্বরত আনসার প্লাটুন কমান্ডার (এপিসি) মো. রোকনুজ্জামান প্রথম টাইম বোমাটি শনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে স্টেশন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী বিশেষজ্ঞ দল নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেটি নিষ্ক্রিয় করে।
পরে একই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে আরও একটি তাজা টাইম বোমা উদ্ধার করা হয়, যা বিশেষজ্ঞরা নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করেন। এ সময় স্টেশনসংলগ্ন সড়ক দিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা অতিক্রম করছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে আনসার সদস্যরা দ্রুত রথযাত্রায় অংশগ্রহণকারী ভক্ত ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেন এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। তাদের তাৎক্ষণিক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপে সম্ভাব্য বড় ধরনের নাশকতা প্রতিহত হওয়ার পাশাপাশি কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেনি।
আরো পড়ুন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au