নির্বাচিত খবর

ভারতীয় বিশ্লেষক ঐশ্বর্য পারিখের নিবন্ধ

বাংলাদেশে ফিরতে পারেন শেখ হাসিনা, তবে কি বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে?

  • 10:50 pm - July 27, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৬ বার
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর প্রত্যাবর্তন কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; বরং এর পেছনে রাজনৈতিক সমঝোতা বা সমীকরণ কাজ করতে পারে।

ভারতীয় বিশ্লেষক ঐশ্বর্য পারিখের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা দেশত্যাগের দুই বছরেরও কম সময় পর আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ডিসেম্বর মাসকে বেছে নেওয়ার পেছনে একাধিক রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে। এটি বাংলাদেশের বিজয় দিবসের মাস, একই সঙ্গে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের উত্তরাধিকারকে সামনে আনারও একটি প্রতীকী সময়। এছাড়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার জন্যও সময় দেওয়া হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিএনপির সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় রয়েছেন কি না, সেটিও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা জায়েদ উর রহমান সম্প্রতি বলেছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা তিনি স্বাগত জানালেও তাঁকে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত বছরের নভেম্বরে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর তাঁকে কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নেওয়া হবে? প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়াকে অনেক পর্যবেক্ষকই ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ বলে মনে করেননি।

বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলীর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা বাংলাদেশের পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। তাঁর মতে, ঢাকা সরকারও এখন বুঝে উঠতে পারছে না কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে।

রিভা গাঙ্গুলী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে স্বাগত জানাতে বিপুল সংখ্যক সমর্থক বিমানবন্দরে বা রাস্তায় জড়ো হতে পারেন। একইভাবে জামায়াতে ইসলামীও পাল্টা সমাবেশের আয়োজন করতে পারে, যা বড় ধরনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে এবং শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

তিনি মনে করেন, শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকা, নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার পুনর্গঠন এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নতুন করে উজ্জীবিত করার লক্ষ্য থাকতে পারে। তাঁর ভাষায়, শেখ হাসিনা অতীতেও বহু প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন এবং কখনোই সেসব পরিস্থিতিকে সরাসরি মোকাবিলা করতে পিছপা হননি।

ওপি জিন্দাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্তের মতে, শেখ হাসিনা যদি ক্ষমতা ছাড়ার সময় অন্য কাউকে নেতৃত্বে রেখে যেতেন, তাহলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন অনেক সহজ হতো। তিনি বলেন, বর্তমানে দলের মধ্যে এমন কোনো নেতৃত্ব নেই, যিনি শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় রাখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বিএনপির সঙ্গে পার্থক্য তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমান লন্ডনে থাকলেও বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারা দীর্ঘদিন দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা যদি স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে আসেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) দাবির ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, প্রত্যর্পণ সম্পূর্ণ আইনি বিষয় এবং ভারত আইন অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করবে।

তবে রিভা গাঙ্গুলী এবং অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত—দুজনেই মনে করেন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন শেষ পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে কোনো না কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতেই সম্ভব হতে পারে।

রিভা গাঙ্গুলী বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে যাননি; তিনি গিয়েছিলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। তিনি নিজে পালিয়ে যাননি, বরং তাঁকে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী নিরাপদে ভারতে নিয়ে যায়। তাই তাঁর প্রত্যর্পণ কেবল আইনি বিষয় নয়, এটি একটি রাজনৈতিক বিষয়ও, যার সমাধান রাজনৈতিকভাবেই হতে হবে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের পদত্যাগও সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি হয়তো শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা করছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি তাই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।

সূত্র: ভারতীয় বিশ্লেষক ঐশ্বর্য পারিখের নিবন্ধ “Bangladesh: Ex-PM Hasina’s Return May Flow From A Political Deal”

এই শাখার আরও খবর

কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি স্থগিতের নির্দেশ

মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই: দেশের ৬২১টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমোদন কেন…

পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে আন্দোলনকারীদের ধরপাকড়ে উদ্বেগ, আইনি সহায়তার ঘোষণা সিজেপির

মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই: পশ্চিমবঙ্গ, অসম, বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্যে নিট আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি ধরপাকড়ের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি…

নীরব আতঙ্কের বাংলাদেশ: দুই বছরে ২,৯৬৩ হামলা – সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে নতুন প্রতিবেদন

মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই: বাংলাদেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের চিত্র বদলেছে, কিন্তু উদ্বেগ কমেনি। বরং সাম্প্রতিক সময়ে বড় আকারের গণ-সহিংসতার পরিবর্তে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যক্তি,…

বিক্ষোভে পেলেট গুলি চালানোর তথ্য মিলল, নির্দেশদাতা নিয়ে বিতর্ক

মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই: শিক্ষার্থীদের সংসদ অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ছররা গুলি (পেলেট) ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে চলা বিতর্কে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা…

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট

মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই: ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আগামী ১০ আগস্ট প্রকাশ করা হবে। সোমবার (২৭ জুলাই) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা…

ভারত বিশ্বের বিশ্বস্ত প্রতিরক্ষা সহযোগী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে

মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই: ভারত ধীরে ধীরে বিশ্বের একটি বিশ্বস্ত প্রতিরক্ষা সহযোগী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au