২০৩০ বিশ্বকাপ ফাইনালের দৌড়ে ক্যাম্প ন্যু
২০৩০ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের দৌড়ে এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে স্পেনের বার্সেলোনার ঐতিহাসিক ক্যাম্প ন্যু। এতদিন স্পেনের মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু এবং মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় প্রস্তাবিত…
ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের ঘন জঙ্গলে সিম কার্ড, মোবাইল টাওয়ার কিংবা ওয়াই-ফাই ছাড়াই যোগাযোগের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে সন্ত্রাসীরা। ‘লোরা’ নামের এই প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থা নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেই নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে ‘লোরা’ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে সন্ত্রাসীরা। লোরার পূর্ণরূপ ‘লং রেঞ্জ, লো পাওয়ার’। কম শক্তি ব্যবহার করে তুলনামূলক দীর্ঘ দূরত্বে যোগাযোগের সুবিধার কারণে দুর্গম পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে এটি কার্যকর হতে পারে।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নজরে বিষয়টি আসে কাশ্মীরে নিহত কয়েকজন পাকিস্তানি সন্ত্রাসী কমান্ডারের কাছ থেকে অত্যাধুনিক অফ-গ্রিড যোগাযোগযন্ত্র উদ্ধারের পর। কর্মকর্তাদের দাবি, এসব যন্ত্র স্থানীয়ভাবে তৈরি নয়। এগুলো আগে থেকেই নির্দিষ্টভাবে কনফিগার করা এবং এনক্রিপ্টেড অবস্থায় সরবরাহ করা হয়।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর বুদগামে একটি বন্দুকযুদ্ধের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। গুরুতওয়াতকালান এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে লস্কর-ই-তৈয়বার কথিত মোস্ট ওয়ান্টেড কমান্ডার মোহাম্মদ আসিফ, ওরফে হাশিম মুসা ফৌজি, নিহত হন। তার মরদেহের কাছ থেকে স্মার্টফোনের পরিবর্তে ‘লোরা আলট্রা’ লেখা একটি কালো যোগাযোগযন্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, এসব যন্ত্র সাধারণ ওয়াকিটকির মতো নয়। এগুলো এনক্রিপ্টেড ও মেশভিত্তিক রেডিও ব্যবস্থা। প্রতিটি যন্ত্র নিজেই একটি ছোট যোগাযোগকেন্দ্রের মতো কাজ করতে পারে। এতে সিম কার্ডের প্রয়োজন হয় না এবং প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপরও নির্ভর করতে হয় না। ফলে সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্কভিত্তিক নজরদারির মাধ্যমে এসব যন্ত্রের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোরা প্রযুক্তি নিম্নশক্তির রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত বার্তা, জিপিএস অবস্থান এবং জরুরি সংকেত পাঠাতে পারে। একটি যন্ত্র অন্য যন্ত্রের কাছে সংকেত পৌঁছে দিতে সক্ষম হওয়ায় একাধিক ডিভাইস মিলে একটি নিজস্ব যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারে।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, দাচিগাম এলাকার কোনো পাহাড়ি চূড়া থেকে নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে থাকা কোনো যোগাযোগকারীর কাছে বার্তা পাঠানো সম্ভব হতে পারে। কিন্তু প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর না করায় সেই যোগাযোগের স্বাভাবিক ডিজিটাল ছাপ নাও থাকতে পারে।
এ কারণেই দুর্গম জঙ্গলে সন্ত্রাসীদের যোগাযোগ শনাক্ত করা নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
দাচিগাম ও পাহালগামের মধ্যবর্তী উচ্চভূমির জঙ্গলে চালানো ‘অপারেশন মহাদেব’-এর সময়ও একাধিক এনক্রিপ্টেড লোরা যন্ত্র এবং সিমবিহীন যোগাযোগযন্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। ওই অভিযানে পাহালগাম হামলার সঙ্গে জড়িত একটি সন্ত্রাসী মডিউলের সদস্যদের খোঁজা হচ্ছিল।
তদন্তে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানতে পারে, সন্ত্রাসীরা মোবাইল নেটওয়ার্ক এড়িয়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের পাশাপাশি পাকিস্তানে অবস্থানকারী কথিত যোগাযোগকারীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছিল।
নিরাপত্তা সংস্থার সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব যোগাযোগযন্ত্রের ফরেনসিক বিশ্লেষণে আরও বড় একটি প্রযুক্তিগত যোগসূত্রের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ভারতের ন্যাশনাল টেকনিক্যাল রিসার্চ অর্গানাইজেশনের ফরেনসিক বিশ্লেষণেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এসব যন্ত্র কাশ্মীরেই তৈরি করা হয়নি। বরং আগে থেকেই কনফিগার করা ও এনক্রিপ্টেড অবস্থায় এগুলো সরবরাহ করা হয় এবং সীমান্তের ওপারে থাকা যোগাযোগকারীদের সঙ্গে ব্যবহারের উপযোগী করে দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে নিরাপত্তা সূত্রের একটি বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা পাকিস্তান থেকে আসতে পারে এবং যোগাযোগ প্রযুক্তির একটি অংশ চীনা উৎস থেকে আসতে পারে। তবে এই প্রযুক্তিগত যোগসূত্রের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
লোরা প্রযুক্তির ব্যবহার শনাক্ত করতে নিরাপত্তা বাহিনীও তাদের নজরদারি কৌশলে পরিবর্তন আনছে। দক্ষিণ কাশ্মীরের বনাঞ্চলে লোরা প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি শনাক্ত করতে স্পেকট্রাম স্ক্যানার ও জ্যামারের সমন্বয় নতুন করে করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, এতদিন সন্ত্রাসীদের যোগাযোগ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে সিম কার্ড, মোবাইল ফোন ও টাওয়ারভিত্তিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। কিন্তু লোরার মতো অফ-গ্রিড প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে শুধু মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করে নজরদারি চালানো যথেষ্ট হবে না।
এক কর্মকর্তা বলেন, এখন শুধু সিম কার্ডের পেছনে ছুটলে হবে না, নীরব রেডিও সংকেতও খুঁজে বের করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই নিরাপত্তা বাহিনী নতুন প্রযুক্তি ও নজরদারি ব্যবস্থা কাজে লাগাচ্ছে।
সুত্রঃ এনডিটিভি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au