বরিশাল বিভাগজুড়ে ডেঙ্গুর বিস্তার, বদলে যাচ্ছে সংক্রমণের চিত্র
মেলবোর্ন, ২৮ জুলাই: পরপর দুই বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পুরোপুরি শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন কলেজ শিক্ষার্থী পলাশ। বরগুনার বেতাগী থেকে উন্নত চিকিৎসার আশায় তাকে আনা…
মেলবোর্ন, ২৮ জুলাই: অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় এসেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও নেতৃত্ব সংকটের পর লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হয়েছেন উপপ্রিমিয়ার বেন ক্যারল। এর মধ্য দিয়ে তিনি ভিক্টোরিয়ার নতুন প্রিমিয়ারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে ভোটাভুটির কয়েক মিনিট আগেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন বিদায়ী প্রিমিয়ার জাসিন্তা অ্যালান।
মঙ্গলবার সকালে লেবার পার্টির ককাস বৈঠকে শুরু থেকেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, বেন ক্যারল সহজেই নতুন নেতা নির্বাচিত হবেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে অ্যাটর্নি জেনারেল সোনিয়া কিলকেনি নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নাম ঘোষণা করলে বৈঠক কয়েক ঘণ্টা অচলাবস্থায় পড়ে। এক পর্যায়ে অন্তর্বর্তীকালীন নেতা নিয়োগের সম্ভাবনাও দেখা দেয়। তবে দীর্ঘ আলোচনা শেষে দলীয় ঐক্য বজায় রাখতে কিলকেনি সরে দাঁড়ালে সর্বসম্মতিক্রমে বেন ক্যারলকে নেতা নির্বাচিত করা হয়। একই বৈঠকে গ্যাব্রিয়েল উইলিয়ামস উপনেতা নির্বাচিত হন।
নেতা নির্বাচিত হওয়ার পরপরই গভর্নমেন্ট হাউসে গিয়ে প্রিমিয়ার হিসেবে শপথ নেন বেন ক্যারল। নিজের প্রথম বক্তব্যে তিনি বলেন, ভিক্টোরিয়ার জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সরকারকে নতুন দিকনির্দেশনা দেওয়াই তার প্রধান লক্ষ্য। সততা, জননিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

ছবি: সংগৃহীত
এদিকে পদত্যাগের ঘোষণায় আবেগাপ্লুত জাসিন্তা অ্যালান বলেন, তিনি দলীয় সদস্যদের ভোটে লড়াই করতে প্রস্তুত ছিলেন এবং জয়ের ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তবে রাজ্য নির্বাচনের মাত্র চার মাস আগে দীর্ঘ নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া দল ও রাজ্যের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করবে বিবেচনায় নিয়ে তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, বেন ক্যারল প্রিমিয়ার হলে তাকে পূর্ণ সমর্থন দেবেন এবং দলের ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জাসিন্তা অ্যালান।ছবি: সংগৃহীত
পদত্যাগী প্রিমিয়ার তার সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তার নেতৃত্বে রাজ্যে নতুন স্কুল ও হাসপাতাল নির্মাণ, গণপরিবহন সুবিধা সম্প্রসারণ, নারীদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং মেলবোর্ন মেট্রো প্রকল্প বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব অর্জন নিয়ে তিনি গর্বিত বলেও মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।ছবি: সংগৃহীত
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ নেতৃত্ব পরিবর্তনের পরও ভিক্টোরিয়ার লেবার সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, রাজ্যের জনগণের সামনে এখন উন্নয়ন অব্যাহত রাখার সুযোগ রয়েছে। তবে বিরোধীরা এই নেতৃত্ব পরিবর্তনকে লেবার সরকারের অভ্যন্তরীণ সংকটের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র সমালোচনা করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন রাজ্য নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে নেতৃত্ব পরিবর্তন ভিক্টোরিয়ার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। এখন বেন ক্যারলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, জনআস্থা পুনরুদ্ধার করা এবং নির্বাচনে লেবার পার্টিকে জয়ের পথে নিয়ে যাওয়া।
সুত্রঃ নিউজ.কম এইউ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au