বাংলাদেশ

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা

‘বাংলাদেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে চাই’: শেখ হাসিনা

  • 4:25 pm - August 06, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৮ বার
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় দুই বছর পর প্রথমবারের মতো সরাসরি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট ভারত থেকে ভার্চুয়ালি আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অংশ নেবেন।" (রয়টার্স)

মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট-  বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রায় দুই বছর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে দেশ ছাড়ার পর এই প্রথম তিনি প্রকাশ্যে দেশে ফেরার সময়সূচি উল্লেখ করলেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় ফেরার জন্য নয়, বরং দেশের মানুষকে নিরাপত্তা, উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে আনতেই তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত।

বুধবার (৫ আগস্ট) ভারতের নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলন।

বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি বাংলাদেশে ফিরতে চাই, কারণ দেশের মানুষ নিরাপত্তা, উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও শান্তি পাওয়ার অধিকার রাখে। তারা এমন একটি রাষ্ট্র ও অর্থনীতি প্রাপ্য, যা তাদের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ সৃষ্টি করবে। আমার ফিরে আসা ক্ষমতার জন্য নয়, বাংলাদেশকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য। আমি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে চাই। জনগণই সব ক্ষমতার উৎস।”

তিনি বলেন, দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেও কখনোই দেশের মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হননি। গত দুই বছর ধরে তিনি বাংলাদেশের পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “গত দুই বছর আমি আমার প্রিয় বাংলাদেশকে কষ্ট পেতে দেখেছি। এটি সেই বাংলাদেশ নয়, যে বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলেছিলাম। এটি সেই বাংলাদেশও নয়, যার জন্য ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।”

২০২৪ সালের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল না

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন সম্পর্কে শেখ হাসিনা দাবি করেন, সেটি কোনো স্বতঃস্ফূর্ত বা শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না। তাঁর অভিযোগ, সংগঠিত কিছু গোষ্ঠী ছাত্রদের ব্যবহার করে সহিংসতা ও সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে।

তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সম্পর্কে সত্যটি বলতে চাই। এটি কোনো শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না, কোনো স্বতঃস্ফূর্ত শিক্ষার্থী আন্দোলনও ছিল না।”

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব মানুষের জীবন ও সরকারি সম্পদ রক্ষা করা।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “যখন পুলিশ স্টেশন ও সরকারি ভবনে আগুন দেওয়া হয় এবং লুটপাট চালানো হয়, তখন মানুষের জীবন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা কি রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়?”

শেখ হাসিনা জানান, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই তিনি সহিংসতার ঘটনা তদন্ত এবং নিহতদের তথ্য নথিভুক্ত করতে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিলেন।

ভারতকে মহান বন্ধুআখ্যা

বক্তব্যে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেরও প্রশংসা করেন। তিনি ভারতকে বাংলাদেশের “মহান বন্ধু” বলে উল্লেখ করেন।

এ সময় তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনা সম্পর্কে ভারত সরকার অবগত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তিনি দেশে ফিরতে চান, এই খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এসেছে। ফলে ভারতের সবাই বিষয়টি জানেন।”

গত দুই বছর ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান প্রসঙ্গে জয় বলেন, তাঁকে রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদা ও নিরাপত্তা দিয়ে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, “ভারত তাঁকে একজন রাষ্ট্রপ্রধানের মতোই মর্যাদা দিচ্ছে। পূর্ণ নিরাপত্তার মধ্যে তিনি এখানে অবস্থান করছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান দেখিয়েছে।”

গ্রেপ্তার বা মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কা থাকলেও ফিরবেন

দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বা প্রাণনাশের ঝুঁকি থাকতে পারে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এসব আশঙ্কা তাঁকে জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে পারবে না।

তিনি বলেন, “আমাকে কারাগারে পাঠানো হতে পারে, এমনকি হত্যা করা হতে পারে। কিন্তু ভয় আমার দায়িত্ব নির্ধারণ করবে না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার পরিবারকে হারিয়েছি এবং ছয় বছর নির্বাসনে কাটিয়েছি। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন নই, আমি উদ্বিগ্ন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে।”

তিনি পুনরায় বলেন, দেশের উন্নয়ন, নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি, শান্তি এবং মানুষের অর্থনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত করতেই তিনি দেশে ফিরতে চান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্য ক্ষমতা অর্জন নয়, বরং জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালন।

সংবাদ সম্মেলন নিয়ে বাংলাদেশের ক্ষোভ

অন্যদিকে, নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ভারত ও শেখ হাসিনার সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ সরকার।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, “পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সেখানে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেছেন।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এই আয়োজন বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে আগে থেকেই ভারত সরকারকে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীর দুঃখ প্রকাশ করছে।”

তবে এর আগের দিন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করে বলেন, অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সেখানে ব্যক্ত হওয়া কোনো মতামত বা বক্তব্যকেও ভারত সরকার সমর্থন করে না।

সূত্রঃ হিন্দুস্তান টাইমস

এই শাখার আরও খবর

ভারতের পার্লামেন্টে অচলাবস্থা, বিরোধী দলের সহযোগিতা চাইল সরকার

মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট- ভারতের পার্লামেন্টে চলমান অচলাবস্থা নিরসনের উদ্যোগ হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন দেশটির সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। বুধবার (৫ আগস্ট)…

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকী আজ

মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট- আজ ২২ শ্রাবণ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকী। বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবতাবাদী চিন্তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই ব্যক্তিত্ব ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ…

শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে বক্তব্যের সুযোগ দেওয়ায় ভারতের প্রতি বাংলাদেশের ক্ষোভ

মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট- ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রকাশ্যে মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে,…

ভারত সরকারের কাছে ক্ষমা চাইলেন জাকারবার্গ

মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও ফেসবুক থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিতর্কের পর ভারত সরকারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন…

জবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট: সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।…

বাংলাদেশ পাকিস্তানে পরিণত হয়েছে, এটি ভারতের উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত: সজীব ওয়াজেদ জয়

মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। ভারতের নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au