শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে বক্তব্যের সুযোগ দেওয়ায় ভারতের প্রতি বাংলাদেশের ক্ষোভ। ছবিঃ সংগৃহহীত
মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট- ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রকাশ্যে মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানায়। এর কয়েক ঘণ্টা আগে নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই ছিল গণমাধ্যমের সামনে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ওই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র এবং দেশের জনগণের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও দুঃখ প্রকাশ করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের ওপর এমন আয়োজন কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে ভারত সরকারকে আগেই উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও প্রকাশ্য এই অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য হতাশাজনক।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, এমন এক দিনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করা হচ্ছিল। সরকারের দাবি, এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মান এবং জুলাই আন্দোলনের নিহতদের স্মৃতির প্রতিও অবমাননাকর।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই বিপ্লবের চেতনায় বাংলাদেশের জনগণ অঙ্গীকারবদ্ধ যে দেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকার সময়ে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কোনো দেশের অনুগত বা আশ্রিত রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। একই সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তাঁর রাজনৈতিক বলয়ের জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কোনো স্থান নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ সরকার জানায়, সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক লাভজনক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ঢাকা।
তবে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হলেও ভারত এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। বরং তাঁকে গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে এবং এটি দুই দেশের সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে শেখ হাসিনা আবারও বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরবেন। তবে কবে ফিরবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি।
অন্যদিকে, এ আয়োজন নিয়ে আগেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছিল ভারত। মঙ্গলবার নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সেখানে প্রকাশিত কোনো বক্তব্য বা মতামতকে ভারত সরকার সমর্থন করে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ঢাকায় ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনা বা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অন্য কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারত সহযোগিতা করবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।