খুলনায় জামায়াত নেতার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ, ঝলসে গেল হাত-পা
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মুড়ির প্যাকেটে রাখা একটি হাতে তৈরি ককটেল বিস্ফোরণে মনিরুল ইসলাম নামে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোর পৌনে…
মেলবোর্ন, ৭ আগষ্ট- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লিতে দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিলেও, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আগামী ১০ আগস্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, ১০ আগস্ট ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। বৈঠকে আগামী সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ভারতের হাইকমিশনারের আবেদন গত ১ জুলাই থেকেই অপেক্ষমাণ ছিল।
সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, শেখ হাসিনার ৫ আগস্ট ভারতের মাটি থেকে দেওয়া বক্তব্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে একটি “অস্বস্তিকর” বিষয় হিসেবে দেখা হলেও, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার অন্যান্য ক্ষেত্র এখনো দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের হাইকমিশনার।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ
সূত্র জানায়, দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ প্রতিবছর দুই লাখ টন ডিজেল সরবরাহের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মোট ২৫টি ক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা। এসব সহযোগিতার মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ গ্রিড প্রযুক্তি হস্তান্তর, স্মার্ট গ্রিড সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ।
ভারতের হাইকমিশনার নীতিগতভাবে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন বলে সূত্রগুলোর দাবি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা, জাহাজ চলাচল এবং এলএনজির প্রাপ্যতায় যে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রভাব গত এক মাস ধরে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে পড়েছে। ফলে বিকল্প সহযোগিতা নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
চলতি বছরের শুরুতে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর এটি হবে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভারত বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক বাণিজ্য অংশীদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সংযোগের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে একাধিক আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সংযোগ চালু রয়েছে। এসব সংযোগের মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও যৌথ অবকাঠামো ও সংযোগ প্রকল্পগুলোর কাজও চলমান রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, উভয় দেশই চায় রাজনৈতিক মতবিরোধ যেন বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক সংযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতামূলক ক্ষেত্রগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার এই সময়ে সহযোগিতা বজায় রাখাকে দুই দেশই গুরুত্ব দিচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে আগামী সেপ্টেম্বরে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন গতি দেওয়া এবং রাজনৈতিক পর্যায়ে আস্থা পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au