রুমমেটদের ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়া পাঠানোর অভিযোগে ইবি ছাত্রীকে ঘিরে চাঞ্চল্য।ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৭ আগষ্ট: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ আবাসিক হলের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে সহপাঠী ও রুমমেটদের ব্যক্তিগত ছবি তাদের অনুমতি ছাড়াই যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এক পরিচিত ব্যক্তির কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ও ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্ত ছাত্রী হলে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তাদের সম্মতি ছাড়াই যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আবিদ নামের এক যুবকের কাছে পাঠাতেন। সম্প্রতি ওই যুবকের সঙ্গে অভিযুক্ত ছাত্রীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি হলে তিনি সংরক্ষিত কিছু ছবি ভুক্তভোগীদের কাছে পাঠিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে হলজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ছবি শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের সমর্থনে তারা বিভিন্ন স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করেছেন বলেও দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গের এই ঘটনায় তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ছাত্রীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে যে অভিযোগ ও তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জুলাই-৩৬ আবাসিক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকী বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। হাউস টিউটরসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান জানান, রাত প্রায় ৩টার দিকে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন এবং সঙ্গে সঙ্গে হলের প্রভোস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়। উপাচার্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মধ্যরাত থেকেই জুলাই-৩৬ আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী আবাসিক হলে নিজেদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তারা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।