থাইল্যান্ডের স্কুলে শিক্ষার্থীর গুলিতে শিক্ষক নিহত, আহত অন্তত ১৫
মেলবোর্ন, ৭ আগষ্ট: থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের অদূরে ননথাবুরি প্রদেশের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীর এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত একজন শিক্ষক নিহত এবং আরও অন্তত ১৫ জন আহত…
মেলবোর্ন, ৭ আগষ্ট: শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে নাবালকদের ক্ষতিকর কনটেন্ট ও যৌন শোষণের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটাকে রেকর্ড পরিমাণ জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত। নতুন রায়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ওপর আরও ৫৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। এর আগে একই মামলায় দেওয়া ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের জরিমানাসহ মেটার মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১১ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড বহুল আলোচিত এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। শিশু সুরক্ষা ইস্যুতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ আর্থিক দণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রায়ে বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড বলেন, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো শিশু ও কিশোরদের জন্য যে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করেছে, তা সমাজের জন্য একটি বিষাক্ত কারখানার দূষণের মতোই ক্ষতিকর। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বিজ্ঞাপননির্ভর কনটেন্ট ও অ্যালগরিদমের মাধ্যমে শিশুদের মানসিক ক্ষতি, অনুপযুক্ত কনটেন্ট এবং যৌন শোষণের ঝুঁকি বাড়ছে, যার প্রভাব শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার ওপরও গুরুতর চাপ সৃষ্টি করছে।
বিচারক আরও বলেন, একটি কারখানার দূষণ যেমন চার দেয়ালের মধ্যে আটকে থাকে না, তেমনি মেটার প্ল্যাটফর্মের ক্ষতিকর প্রভাবও সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই শিশুদের ক্ষতি কমাতে জরিমানার অর্থ একটি বিশেষ তহবিলে জমা রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল মেটার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং থ্রেডস প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম এমনভাবে পরিচালিত হয়, যাতে নাবালক ব্যবহারকারীরা সহজেই ক্ষতিকর কনটেন্ট ও যৌন হয়রানিকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
আদালতের মতে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনে মেটা প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির এই অবহেলা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঐতিহাসিক রায়ের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিরাপত্তা, বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের সুরক্ষার বিষয়ে নজরদারি আরও কঠোর হতে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যালগরিদম, কনটেন্ট ব্যবস্থাপনা এবং শিশু নিরাপত্তা নীতিমালা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা ও আইনি পদক্ষেপ জোরদার হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au