সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৮
মেলবোর্ন, ৭ আগষ্ট: সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার…
মেলবোর্ন, ৭ আগষ্ট: থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের অদূরে ননথাবুরি প্রদেশের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীর এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত একজন শিক্ষক নিহত এবং আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক রয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং শিক্ষার্থীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে সন্দেহভাজন হামলাকারী আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ননথাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলায় অবস্থিত দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়টি থাইল্যান্ডের অন্যতম পরিচিত মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
থাইল্যান্ডের অন্যতম বৃহৎ উদ্ধারকারী সংস্থা পোহ টেক তুং ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় দুইজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানায়, ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেন।
ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডেচরাপি কংদি জানিয়েছেন, হামলাকারী বিদ্যালয়েরই একজন শিক্ষার্থী। গুলির ঘটনার পর সে আত্মহত্যা করেছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং হামলার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
থাইল্যান্ডের সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে অন্তত একজন শিক্ষক এবং তিনজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সিএনএনের যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, গুলির শব্দ শোনার পর আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা দৌড়ে বিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আসছে। এ সময় বিদ্যালয়ের কর্মীরা তাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সহায়তা করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি উদ্ধারকর্মীরা স্ট্রেচারের মাধ্যমে আহতদের হাসপাতালে পাঠান।
থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতা দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের বিষয়। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক স্মল আর্মস সার্ভে (এসএএস)-এর ২০১৭ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বেসামরিক নাগরিকদের কাছে এক কোটি তিন লাখের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন মানুষের বিপরীতে প্রায় ১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।
এছাড়া ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন (আইএইচএমই)-এর তথ্য অনুযায়ী, আগ্নেয়াস্ত্রজনিত হত্যাকাণ্ডের দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ফিলিপাইনের পরই থাইল্যান্ডের অবস্থান।
এর আগেও দেশটিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের হাত ইয়াই জেলার একটি স্কুলে বন্দুকধারীর গুলিতে একজন শিক্ষক নিহত এবং একজন শিক্ষার্থী আহত হন। আর ২০২২ সালে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে ভয়াবহ বন্দুক ও ছুরি হামলায় ৩৬ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ২৪ জনই ছিল শিশু। সেই ঘটনাটি থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
সাম্প্রতিক এই হামলার পর আবারও দেশটিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সুত্রঃ সিএনএন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au