মহাকাশ থেকে প্রথম ই-মেইল পাঠানোর ৩৫ বছর আজ
মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট: মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে প্রথম ই-মেইল পাঠানোর ৩৫ বছর পূর্ণ হলো আজ। ১৯৯১ সালের ৯ আগস্ট মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে স্মরণীয় এই ঘটনা ঘটে।…
মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট: কুমিল্লার দেবীদ্বারে ফরিদা বেগম (৫৫) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে পলিথিনের ব্যাগে ভরে বাড়ির পেছনে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় বাড়ির নবাগত ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, লাইলী এর আগেও একটি শিশু হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় পাঁচ বছর কারাভোগ করেছিলেন এবং সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর নতুন করে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িয়েছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোটআলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত ফরিদা বেগম ফতেহাবাদ ভূঁইয়া বাড়ির মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্ত্রী। স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ফরিদা বেগমের মরদেহের খণ্ডিত অংশ পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মোট নয়টি প্যাকেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে প্রথমদিকে মরদেহের মাথা ও পায়ের অংশ পাওয়া যায়নি। পরে রোববার পায়ের কিছু অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিখোঁজ অন্যান্য অংশ উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাইলী আক্তার সম্প্রতি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। এরপর তিনি দেবীদ্বারের ওই বাড়িতে ভাড়া নেন। নিহত ফরিদা বেগমের কাছ থেকে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে সেখানে বসবাস করছিলেন তিনি।
ফরিদার স্বজনদের দাবি, চলতি মাসের ১ আগস্ট থেকে লাইলী ওই বাড়িতে বসবাস শুরু করেছিলেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তিনি প্রায় ১২ দিন আগে সেখানে উঠেছিলেন। তার স্বামী আবুল কালাম চাপানগর এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় ট্রাক্টরচালক।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লাইলী আক্তারের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের একটি ভয়াবহ শিশু হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় ফাহিমা নামে পাঁচ বছরের এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
র্যাবের তৎকালীন তদন্ত অনুযায়ী, ফাহিমা তার বাবা আমির হোসেন ও লাইলী আক্তারের কথিত অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জেনে ফেলেছিল। শিশুটি বিষয়টি তার মাকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ফাহিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, শিশুটিকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং পরে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ গরুর খাবারের একটি বস্তায় ভরে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে সে সময় জানিয়েছিল র্যাব।
২০২১ সালের ১৭ নভেম্বর রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের তৎকালীন লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন ওই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেছিলেন।
ওই ঘটনায় কুমিল্লার দেবীদ্বার ও রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে আমির হোসেন (২৫), রবিউল আউয়াল (১৯), রেজাউল ইসলাম ইমন (২২), লাইলী আক্তার (৩০) ও সোহেল রানা (২৭)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। র্যাব জানিয়েছিল, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছিলেন।
র্যাবের তদন্তে একটি ২৫ কেজি গরুর খাবারের বস্তা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে সামনে আসে। ওই বস্তায় শিশুটির মরদেহ ভরে ফেলা হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পারেন। বস্তাটি কোন খামার থেকে নেওয়া হয়েছিল, তা অনুসন্ধান করতে গিয়ে একে একে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়।
এবারের হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ ছিল, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তবে দেবীদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহীন জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বাড়ির মালিকের স্বর্ণালঙ্কারের প্রতি লোভ থেকে ফরিদা বেগমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
তিনি বলেন, লাইলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফরিদা বেগম স্বামী ও সন্তানদের থেকে আলাদা হয়ে ওই বাড়িতে একাই থাকতেন। তার স্বামী মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া চট্টগ্রামে একটি জাহাজে চাকরি করেন। তাদের দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে গেছে। তাদের একমাত্র ছেলে কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।
এ কারণে বাড়িতে ফরিদা একাই থাকতেন। নতুন ভাড়াটিয়া হিসেবে লাইলী সেখানে ওঠার পর তাদের মধ্যে পরিচয় তৈরি হয়।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ফরিদার খণ্ডিত মরদেহের নয়টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের কিছু অংশ তখনো নিখোঁজ ছিল। পরে পায়ের কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাইলীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও চারজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডে লাইলী একাই জড়িত ছিলেন কি না, নাকি তার সঙ্গে আরও কেউ ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য, মরদেহ টুকরো করার কারণ এবং ঘটনাটির সঙ্গে অন্যদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, মাত্র কয়েক বছর আগে একটি শিশু হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া লাইলী আক্তার জামিনে মুক্তির পর আবারও এমন একটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের পেছনের পুরো রহস্য স্পষ্ট হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au