মিয়ানমারে সু চির নিঃশর্ত মুক্তির দাবি প্রত্যাখ্যান করল জান্তা সরকার
মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট- মিয়ানমারের সামরিক-সমর্থিত প্রশাসন আটক সাবেক নেত্রী অং সান সু চির নিঃশর্ত মুক্তির জন্য আসিয়ানের নতুন করে জানানো দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে…
মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট: রাশিয়া থেকে ভারত পর্যন্ত সরাসরি রেলপথ স্থাপনের একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কথা জানিয়েছে মস্কো। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিকল্প রেল সংযোগ গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে রাশিয়া।
রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিন এ সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারত মহাসাগর পর্যন্ত সরাসরি রেল সংযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে বসফরাস ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিবহন ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প স্থলপথ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
সম্ভাব্য রুট সম্পর্কে মারাত খুসনুলিন জানান, রাশিয়া থেকে ভারত পর্যন্ত রেলপথ স্থাপনের ক্ষেত্রে তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন বিকল্প করিডর বিবেচনা করা যেতে পারে। তাঁর মতে, ভারতের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম যেকোনো কার্যকর পথই আলোচনার আওতায় আনা হবে।
এই রেল নেটওয়ার্ক বাস্তবায়িত হলে রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে সরাসরি স্থলপথে পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার পাশাপাশি সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেও বাণিজ্যিক যোগাযোগ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
রুশ উপপ্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত মহাসাগরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। বসফরাস ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ও পরিবহন ঝুঁকি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় বিকল্প স্থল করিডর তৈরি করা প্রয়োজন।
মস্কোর এই প্রস্তাব এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনপথ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বিকল্প বাণিজ্যপথের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
রাশিয়ার প্রস্তাবিত রেল করিডরের পথে তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মতো দেশ যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বড় ধরনের কূটনৈতিক, নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এসব দেশের ভূখণ্ডে প্রয়োজনীয় রেল অবকাঠামো, সীমান্ত পারাপার ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তবে পরিকল্পনাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের প্রস্তাব হিসেবেই রয়েছে। কোন পথে রেললাইন নির্মাণ করা হবে, এর ব্যয় কত হতে পারে এবং বাস্তবায়নে কোন কোন দেশ যুক্ত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যবস্থায় বিকল্প রুট তৈরির বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই মস্কোর এই প্রস্তাবকে দেখা হচ্ছে। বাস্তবে রূপ নিলে এই রেলপথ ইউরেশিয়া থেকে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত একটি নতুন স্থল বাণিজ্য করিডর তৈরির সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au