সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বৈঠক করলেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট- বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন ইস্যু আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, দুই দেশের সাধারণ মানুষই পারস্পরিক সুন্দর সম্পর্ক চায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান। আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ভালো হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভারতীয় হাইকমিশনার এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার খুব ভালো লেগেছে। অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এটি তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ হলেও প্রথমবারের মতো মনে হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে বিভিন্ন ইস্যু থাকবে। ইস্যু থাকা স্বাভাবিক। তবে সেগুলো সমাধানযোগ্য।
তিনি বলেন, ‘‘ইস্যু না থাকলে তো গণতন্ত্র থাকবে না। ইস্যু তো বাড়িতেও থাকে। আমি যখন বাড়ি যাই, বাড়িতেও ইস্যু থাকে। কিন্তু কোনো ইস্যু আমরা সমাধান করতে পারি, এটা আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি।’’
দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো বিষয় নেই, যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ই প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ এবং দুই দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার মধ্যেও অনেক মিল রয়েছে।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারতের জনগণ বাংলাদেশের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক চায়। বাংলাদেশের জনগণও ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রীও দুই দেশের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক চান। ভবিষ্যতে ভালো কিছু হবে বলে তিনি আশাবাদী।
দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের ইতিহাস পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, প্রতিবেশীও পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। শুধু সীমান্ত ভাগাভাগি নয়, দুই দেশ অনেক স্বপ্নও ভাগাভাগি করে।
বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, গত দুই মাসে তিনি বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে অনেক সম্মান, ভালোবাসা ও আন্তরিকতা পেয়েছেন। এতে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বাড়াতে হবে। দুই দেশের নেতারা একসঙ্গে বসলে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে এবং সেগুলোর সমাধানের পথও বের হবে।
দুই দেশের সরকার কবে বৈঠকে বসবে এবং আসন্ন কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে বৈঠক হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘‘সবই ভালো হবে।’’
তিনি বলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব কিছু ইস্যু থাকবে, ভারতেরও নিজস্ব ইস্যু থাকবে। তবে সাধারণ মানুষের ইস্যু একটাই, তা হলো ভালো সম্পর্ক। দুই দেশের মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকলে বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলা করাও সহজ হবে।
ভারতীয় হাইকমিশনার আরও বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেসব ইস্যু রয়েছে, সেগুলো সমাধান করতেই হবে। আগামী দিনগুলো নিয়ে তিনি খুবই আত্মবিশ্বাসী এবং সম্পর্ক আরও ভালো হবে বলে আশা করছেন।
গত জুনে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটিই প্রথম সাক্ষাৎ। এর আগে রোববার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর এসব বৈঠক দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার নতুন পর্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে।