চেলসির এনজো ফার্নান্দেজের দাম ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড, আগ্রহী ম্যানসিটি
মেলবোর্ন, ১১ আগষ্ট: আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে দলে নিতে আগ্রহী ম্যানচেস্টার সিটি। তবে চেলসির এই তারকাকে পেতে হলে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হবে ইংলিশ…
মেলবোর্ন, ১১ আগষ্ট: লিবিয়ার সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার জাওয়িয়া তেল শোধনাগারের একটি ডিজেল সংরক্ষণ ট্যাংকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ১১ আগস্ট আগুন লাগার পর দমকলকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তা নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশনের (এনওসি) সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্রেগা পেট্রোলিয়াম মার্কেটিং কোম্পানি জানিয়েছে, আগুনের কারণে শোধনাগারের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি আগুনের কারণ খতিয়ে দেখছেন।
ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যে ট্যাংকে আগুন লেগেছে, সেখানে আনুমানিক ৪৫ লাখ লিটার পেট্রল মজুত ছিল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ট্যাংকটি সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে। এ ঘটনার পর জাওয়িয়া এলাকায় সর্বোচ্চ মাত্রার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশন।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে জাওয়িয়া শহরের আকাশে আগুনের বড় বড় শিখা এবং ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জাওয়িয়া তেল শোধনাগার লিবিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই শোধনাগারটির প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে।
শোধনাগারটি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শারারা তেলক্ষেত্রের সঙ্গেও যুক্ত। শারারা তেলক্ষেত্রের দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল। ফলে জাওয়িয়া শোধনাগারে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে লিবিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ও তেল অবকাঠামোর ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীরা কাজ চালিয়ে গেলেও শোধনাগারের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন সেখানে কর্মরত দুই প্রকৌশলী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের মধ্যেও শোধনাগারের কিছু কার্যক্রম চালু ছিল।
এর মাত্র দুই দিন আগে, শনিবার ভোরেও একই শোধনাগারে একটি গুরুতর নিরাপত্তা ঘটনা ঘটে। ওই সময় অপরিশোধিত ন্যাফথা সংরক্ষণের একটি ট্যাংকে ড্রোন আঘাত হানে। এতে ট্যাংকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ন্যাফথা ছড়িয়ে পড়ে। তবে শোধনাগারের কর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
দুই দিনের ব্যবধানে একই গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ন্যাফথা সংরক্ষণ ট্যাংকে ড্রোন হামলার পর এবার বিপুল পরিমাণ পেট্রল মজুত থাকা একটি ট্যাংকে আগুন লাগায় ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে সোমবারের অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে শনিবারের ড্রোন হামলার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং আগুনের প্রকৃত কারণ ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
জাওয়িয়া তেল শোধনাগার লিবিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের পর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য এখন আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা, শোধনাগারের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au