চেলসির এনজো ফার্নান্দেজের দাম ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড, আগ্রহী ম্যানসিটি
মেলবোর্ন, ১১ আগষ্ট: আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে দলে নিতে আগ্রহী ম্যানচেস্টার সিটি। তবে চেলসির এই তারকাকে পেতে হলে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হবে ইংলিশ…
মেলবোর্ন, ১১ আগষ্ট: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ’ বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২৩৮ মিলিয়ন ডলার লোকসান হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি।
এই বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা সামাল দিতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের অন্যান্য অলাভজনক প্রকল্প থেকে সরে এসে আবারও মূল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবসার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে নতুন আয়ের পথ তৈরির লক্ষ্যে ‘ট্রুথ এপিআই’ নামে একটি নতুন সেবা চালু করেছে ট্রাম্প মিডিয়া।
ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের সাম্প্রতিক আর্থিক হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে প্রতিষ্ঠানটির লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩৮ মিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে যে পরিমাণ লোকসান হয়েছিল, এবারের ক্ষতির পরিমাণ তার তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি।
প্রতিষ্ঠানটির আয় বাড়লেও আর্থিক বাজারের অস্থিরতা এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্য কমে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিশেষ করে বিটকয়েনসহ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সির দামে পতন প্রতিষ্ঠানটির সম্পদের মূল্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ফলে কাগজে-কলমে থাকা সম্পদের মূল্য কমে যাওয়ায় সামগ্রিক আর্থিক হিসাবে বড় ক্ষতি দেখা দিয়েছে।
লোকসান কমাতে ট্রাম্প মিডিয়া এখন তাদের মূল ব্যবসা ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর ওপর আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য অলাভজনক প্রকল্প ও উদ্যোগ থেকে সরে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মটিকে কেন্দ্র করে নতুন আয়ের সুযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে।
ট্রাম্প মিডিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবসাকে আরও কার্যকর ও লাভজনক করার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নতুন সেবা চালুর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির আয় বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর অংশ হিসেবে চালু করা হয়েছে ‘ট্রুথ এপিআই’। এই সেবার মাধ্যমে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে বড় বড় ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট সাধারণ ব্যবহারকারীদের দেখার আগেই পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
‘ট্রুথ এপিআই’ মূলত একটি প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, যার মাধ্যমে আর্থিক বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট দ্রুত সংগ্রহ করতে পারবে। বিশেষ করে যেসব বক্তব্য বা পোস্ট বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে, সেগুলো সাধারণ ব্যবহারকারীদের তুলনায় আগে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
ডেমোক্র্যাট দলের নেতারা এই ব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন। তাদের প্রশ্ন, একজন প্রেসিডেন্টের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে সাধারণ মানুষের আগে পৌঁছে দেওয়া কতটা ন্যায্য।
তবে ট্রাম্প মিডিয়া এই সমালোচনা নাকচ করে বলেছে, এটি প্রযুক্তি খাতের একটি প্রচলিত ব্যবসায়িক মডেল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে তথ্য সংগ্রহ ও দ্রুত সরবরাহের জন্য এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু করা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
তিন মাসে ২৩৮ মিলিয়ন ডলার লোকসান হলেও ট্রাম্প মিডিয়ার আর্থিক অবস্থান পুরোপুরি সংকটাপন্ন নয়। প্রতিষ্ঠানটির হাতে এখনো প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার নগদ অর্থ রয়েছে।
এ ছাড়া কোম্পানির কাছে প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পদ রয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক বড় লোকসানের পরও প্রতিষ্ঠানটির হাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তরল অর্থ ও ডিজিটাল সম্পদ রয়েছে।
তবে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারদর ওঠানামার ওপর এসব সম্পদের মূল্য অনেকটাই নির্ভরশীল। বিটকয়েনসহ অন্যান্য ডিজিটাল মুদ্রার দাম কমে গেলে ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক হিসাবে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা দিতে পারে।
ট্রাম্প মিডিয়ার সাম্প্রতিক আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আয় বাড়ার পরও কেন এত বড় লোকসান হয়েছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পদের মূল্য কমে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির লোকসানের পুরোটা সরাসরি ট্রুথ সোশ্যালের ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে তৈরি হয়নি। বিনিয়োগ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পদের মূল্য পরিবর্তনের প্রভাবও সামগ্রিক আর্থিক হিসাবে বড় ভূমিকা রেখেছে।
এখন ট্রাম্প মিডিয়ার লক্ষ্য হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবসাকে আরও শক্তিশালী করা এবং ‘ট্রুথ এপিআই’-এর মতো নতুন সেবা থেকে আয় বাড়ানো। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি তাদের হাতে থাকা নগদ অর্থ ও ক্রিপ্টো সম্পদ ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে চাইছে।
তবে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ট্রুথ সোশ্যালের ব্যবসায়িক মডেল সরাসরি যুক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুত্রঃ ইন্ডিয়া টুডে
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au