চেলসির এনজো ফার্নান্দেজের দাম ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড, আগ্রহী ম্যানসিটি
মেলবোর্ন, ১১ আগষ্ট: আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজকে দলে নিতে আগ্রহী ম্যানচেস্টার সিটি। তবে চেলসির এই তারকাকে পেতে হলে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হবে ইংলিশ…
মেলবোর্ন, ১১ আগষ্ট: ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ফৌজদারি মামলা শেষ পর্যন্ত খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। মার্কিন বিচার বিভাগ তার বিরুদ্ধে আনা ঘুষ ও প্রতারণার অভিযোগের বিচার আর এগিয়ে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর আদালত মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করে।
ব্রুকলিনভিত্তিক মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক নিকোলাস গারাউফিস সোমবার ফেডারেল প্রসিকিউটরদের করা মামলা খারিজের আবেদন অনুমোদন করেন। এর ফলে ২০২৪ সালের নভেম্বরে অভিযোগ আনার পর থেকে গৌতম আদানিকে ঘিরে চলা বহুল আলোচিত আইনি লড়াইয়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।
আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন গৌতম আদানি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে এবং আইনের শাসনের ওপর তার আস্থা অটুট রয়েছে।
আদানি বলেন, কঠিন এই সময়েও সত্য, ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসনের প্রতি তাদের বিশ্বাস কখনো দুর্বল হয়নি। একই সঙ্গে যারা তার ওপর, বিচারব্যবস্থার ওপর এবং ন্যায়বিচারের সক্ষমতার ওপর আস্থা রেখেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
২০২৪ সালের নভেম্বরে গৌতম আদানি ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে অভিযোগ আনে মার্কিন প্রসিকিউশন। অভিযোগে বলা হয়েছিল, ভারতের একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন নিশ্চিত করতে দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে গৌতম আদানি সম্মত হয়েছিলেন।
প্রকল্পটি আদানি গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ ছিল, এই প্রকল্প থেকে বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার লক্ষ্যে ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
এ ছাড়া আদানি গ্রুপ মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছে নিজেদের দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম ও নীতিমালা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।
তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে আদানি গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং তারা কোনো ধরনের অনিয়মে জড়িত নয়। গৌতম আদানিও মার্কিন আদালতে হাজির হয়ে এসব ফৌজদারি অভিযোগের জবাব দেননি।
চলতি বছরের মে মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, তারা গৌতম আদানির বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি মামলা আর এগিয়ে নিতে চায় না। বিচার বিভাগের ব্যাখ্যায় বলা হয়, মামলাটির বেশির ভাগ ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান করছেন।
এ ছাড়া অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণ করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে মার্কিন সরকারের বর্তমান আইন প্রয়োগের অগ্রাধিকারও মামলাটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলে জানানো হয়।
তবে বিচারক নিকোলাস গারাউফিস শুরুতে বিচার বিভাগের ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট হননি। তিনি মামলা প্রত্যাহারের কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন।
বিশেষ করে গৌতম আদানি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেটির সঙ্গে মামলা প্রত্যাহারের কোনো ধরনের সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়েও বিচারক প্রশ্ন তোলেন।
আদানি আদালতে দেওয়া এক শপথ করা ঘোষণায় বলেন, মামলা প্রত্যাহারের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের কোনো চুক্তির বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। তার দাবি, মামলাটি খারিজ করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে কোনো বিনিয়োগ বা অন্য কোনো সুবিধা বিনিময়ের ঘটনা ঘটেনি।
তিনি অবশ্য স্বীকার করেন, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তার আইনজীবীরা মার্কিন প্রসিকিউটরদের জানিয়েছিলেন যে এই বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি মামলাটির সম্ভাব্য সমাধানের অংশ হতে পারে।
আদানির আইনজীবী রবার্ট জিউফরা আদালতকে জানান, মার্কিন বিচার বিভাগ তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে আদানি গ্রুপের যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের আগ্রহ মামলাটি নিষ্পত্তির সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।
জুলাইয়ে আদালতে জমা দেওয়া একটি নথিতেও মার্কিন বিচার বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ট্রেন্ট ম্যাককটার একই অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে গৌতম আদানির যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের পরিকল্পনার কোনো সম্পর্ক নেই।
গৌতম আদানির বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ফেডারেল প্রসিকিউশনের অগ্রাধিকারে পরিবর্তন এসেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে মার্কিন প্রসিকিউটররা বেশ কয়েকটি আলোচিত শ্বেতপোশ অপরাধের মামলা আর না এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। এর ফলে ব্যবসায়ী ও করপোরেট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চলমান কিছু উচ্চপ্রোফাইল মামলার ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে গৌতম আদানির মামলা খারিজ হওয়ার বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পার্থক্যও তৈরি করে। মামলা বাতিল হওয়ার অর্থ এই নয় যে আদালত অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ বিচার করে আদানিকে নির্দোষ ঘোষণা করেছে। বরং মার্কিন বিচার বিভাগ মামলাটি আর এগিয়ে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আদালত সেটি খারিজ করেছে।
মামলা চলাকালীনও আদানি গ্রুপ ভারতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই মার্কিন অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে এসেছে।
মামলা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পর গৌতম আদানি যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ, ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দেশ গঠনে তার বৃহত্তর পরিকল্পনা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সামনে তাদের মূল লক্ষ্য থাকবে দেশের জন্য কাজ করা, দীর্ঘমেয়াদি মূল্য তৈরি করা এবং নিজেদের চেয়ে বৃহত্তর একটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়া।
ফলে ২০২৪ সালে শুরু হওয়া গৌতম আদানিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত ফৌজদারি মামলার পরিসমাপ্তি ঘটলেও অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে আদালতে কোনো পূর্ণাঙ্গ বিচারিক রায় হয়নি। একই সঙ্গে আদানি গ্রুপও তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে আগের অবস্থানেই রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au