রাশিয়ার হামলায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ ইউক্রেনের
মেলবোর্ন, ১১ আগস্ট: ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বশেষ হামলায় উত্তর কোরিয়ার তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কিয়েভ। মঙ্গলবার ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এ দাবি…
মেলবোর্ন, ১১ আগস্ট: কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমারের নাকপুরা দ্বীপ এলাকায় রোহিঙ্গা সশস্ত্র দুই গোষ্ঠীর মধ্যে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে চলা এ সংঘর্ষে সীমান্তবর্তী বাংলাদেশি জনপদে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে নাকপুরা দ্বীপ এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গুলির শব্দ ও বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়। এতে সীমান্তঘেঁষা জেলেপাড়া ও গুদামপাড়া এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেকে নিরাপত্তার কারণে ঘর থেকে বের হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, নাকপুরা দ্বীপের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে মিয়ানমার ভিত্তিক রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ) এবং আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-সমর্থিত একটি গোষ্ঠীর মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়েছে।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নাসরিন পারভিন কবির বলেন, মিয়ানমার সীমান্তে রাতভর গোলাগুলির ঘটনায় সীমান্ত এলাকার মানুষ চরম আতঙ্কে ছিলেন। প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটায় সীমান্ত ঘেঁষা জেলেপাড়া ও গুদামপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। এদিকে গোলাগুলির মধ্যে মিয়ানমারের দিক থেকে একটি নৌকা বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে সেটি প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, নাকপুরা দ্বীপ এলাকায় গোলাগুলির সময় একটি নৌকা বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি সদস্যরা ফাঁকা গুলি ছুড়ে নৌকাটিকে ফিরিয়ে দেন।
তিনি বলেন, নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা মো. রফিক বলেন, নাফ নদীর ওপারে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। প্রয়োজন ছাড়া সীমান্ত এলাকায় যাতায়াত না করার পরামর্শ দেন তিনি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতির বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au