ডিআর কঙ্গোতে ইবোলায় মৃতের সংখ্যা ২০০০ ছাড়াল।
মেলবোর্ন, ১১ আগষ্ট: গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের বর্তমান প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পাঁচটি প্রদেশে ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৩৮১ জন।
কঙ্গোর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, চলমান প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া, চলমান সংঘাত এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে এবার ইবোলা আগের তুলনায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
এটি গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব। এবারের সংক্রমণের জন্য দায়ী ভাইরাসটি বুন্দিবুগিও স্ট্রেইনের। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবে মাত্র তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে গত এক মাসের হিসাব থেকে। এক মাসেরও কম সময়ে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার থেকে বেড়ে ২ হাজারের বেশি হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, এত দ্রুত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা, তাদের আলাদা রাখা এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার কাজও ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
আক্রান্ত এলাকাগুলোতে চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি এবং নিরাপত্তাহীনতা ইবোলা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের চলাচল ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও পৃথক করা না গেলে ভাইরাসটি আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙাও কঠিন হয়ে পড়বে।
একটি গবেষণায় ধারণা করা হয়েছে, কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে এবারের ইবোলা সংক্রমণ চলতি বছরের জানুয়ারি বা তারও আগে শুরু হয়ে থাকতে পারে।
জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ১৫ মে পর্যন্ত ওই প্রদেশে ৫০০ জনের বেশি সন্দেহভাজন ইবোলা রোগী শনাক্ত করা হয়েছিল। তবে রোগ শনাক্তকরণ ও নজরদারির সীমাবদ্ধতার কারণে প্রাদুর্ভাবের প্রকৃত বিস্তার আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও ইতোমধ্যে এই প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও ইবোলা শনাক্ত হওয়ায় আঞ্চলিকভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
কঙ্গো সরকারের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম আফ্রিকায় ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের পর এটিই সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া বড় প্রাদুর্ভাব।
ওই সময় গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে ইবোলায় মোট ২৮ হাজার ৬১৬ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ১১ হাজার ৩১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই প্রাদুর্ভাব বিশ্বজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছিল এবং আফ্রিকার স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কঙ্গোতে তিন মাসেরও কম সময়ে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এক মাসেরও কম সময়ে মৃতের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় ইবোলার দ্রুত বিস্তারের ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এখন আক্রান্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, রোগীদের পৃথকীকরণ, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের অনুসন্ধান এবং চিকিৎসা সহায়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে সংঘাত, চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি এবং ভাইরাসটির বিরুদ্ধে অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসার অনুপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।