ফিফা থেকে ইনফান্তিনোকে সরানো হবে ‘ভয়াবহ ভুল’, সতর্ক করলেন ট্রাম্প
মেলবোর্ন, ১১ আগস্ট: ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিফা থেকে ইনফান্তিনোকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে সেটি ‘ভয়াবহ ভুল’ হবে…
মেলবোর্ন, ১১ আগষ্ট- সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধকালীন গুরুতর অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট দামেস্কের একটি ফৌজদারি আদালত অনুপস্থিতিতে এই রায় দেন। একই মামলায় তার ছোট ভাই মাহের আল-আসাদ এবং সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
আদালতের এই রায় সিরিয়ার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিনের আসাদ শাসনের পতনের পর অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের অধীনে তার পরিবারের বিরুদ্ধে এটাই অন্যতম বড় বিচারিক পদক্ষেপ। ২০১১ সালে শুরু হওয়া গণআন্দোলন দমনে হত্যা, নির্যাতন ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের অভিযোগে আসাদ ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে।
আতেফ নাজিব ছিলেন বাশার আল-আসাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এবং দারা প্রদেশে রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক প্রধান। ২০১১ সালে দারায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তার ভূমিকা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। ওই সময় শিশুদের আটক ও নির্যাতনের ঘটনাসহ নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন পরবর্তী সময়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সশস্ত্র সংঘাতের অন্যতম সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
আদালতের কার্যক্রমে নাজিবকে আটক অবস্থায় উপস্থিত করা হলেও বাশার আল-আসাদ ও তার ভাই মাহের অনুপস্থিত ছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহী বাহিনী দামেস্ক দখলের দিকে অগ্রসর হলে আসাদ ক্ষমতা হারিয়ে রাশিয়ায় পালিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি রাশিয়াতেই অবস্থান করছেন বলে জানা যায়। ফলে আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হওয়ার সুযোগ নেই।
সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের শাসনের অবসান ঘটে প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের পর। ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে সংঘাত দ্রুত সশস্ত্র যুদ্ধে রূপ নেয়। পরবর্তী বছরগুলোতে দেশটি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী, বিদ্রোহী বাহিনী ও বিদেশি শক্তির সংঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
দীর্ঘ এই সংঘাতে বিপুল প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে, সংঘাতের কারণে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে নির্বিচার হামলা, আটক, নির্যাতন ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে।
তবে আসাদ পরিবারের বিরুদ্ধে এই বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে ভবিষ্যতে আরও আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আসাদ বর্তমানে রাশিয়ায় থাকায় তাকে সিরিয়ায় ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বাস্তবে কতটা সম্ভব হবে, তা বড় প্রশ্ন হয়ে থাকছে।
আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকের বেশি সময়ের শাসনের অবসানের পর সিরিয়া এখন রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কঠিন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নতুন কর্তৃপক্ষের জন্য সাবেক শাসকদের অপরাধের বিচার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দেশটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় পুনর্মিলন প্রতিষ্ঠাও বড় চ্যালেঞ্জ।
মঙ্গলবারের এই রায় তাই শুধু সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে একটি বিচারিক সিদ্ধান্ত নয়। এটি আসাদ আমলের অপরাধের জন্য জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার নতুন অধ্যায়েরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে বাশার আল-আসাদ রাশিয়ায় অবস্থান করায় রায়ের বাস্তব প্রয়োগ এবং তাকে বিচারের আওতায় আনার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।
সূত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au