গণমাধ্যমে তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ৫০ মার্কিন কর্মকর্তার লাই ডিটেক্টর পরীক্ষা
মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট স্টাফের প্রায় ৫০ জন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তার পলিগ্রাফ বা লাই ডিটেক্টর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে অননুমোদিত সামরিক তথ্য ফাঁসের…
মেলবোর্ন, ১৩ আগষ্ট- চাহিদামতো সিএনজি গ্যাস সরবরাহ এবং জামালপুরে আরও একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন নির্মাণের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা। এতে জামালপুর-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে জামালপুর শহরের বাইপাস এলাকায় জাবেদ ফিলিং স্টেশনের সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন চালকরা। অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে ছোট-বড় যানবাহনের পাশাপাশি দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী যান আটকা পড়ে।
অবরোধকারী চালকদের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস ধরে জামালপুরে সিএনজি গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় ভাড়ায় চালিত অটোরিকশার চালকরা নিয়মিত আয় করতে পারছেন না। অনেক চালককে গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফিলিং স্টেশনের সামনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
চালকদের দাবি, একটি অটোরিকশায় প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার গ্যাস প্রয়োজন হলেও তারা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে মাত্র ৮০ থেকে ১০০ টাকার গ্যাস পাচ্ছেন। এর জন্যও অনেক সময় ১১ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
চালকরা আরও জানান, জামালপুর জেলায় বর্তমানে মাত্র একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন থাকায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার চালকদের গ্যাস নিতে জামালপুর সদরে আসতে হয়। কোনো কোনো চালককে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ফিলিং স্টেশনে আসতে হচ্ছে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসে অল্প পরিমাণ গ্যাস পাওয়ায় সেই গ্যাসের বড় একটি অংশ বাড়ি থেকে ফিলিং স্টেশনে আসা এবং ফেরার পথেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ থাকছে না।
দেওয়ানগঞ্জ থেকে গ্যাস নিতে আসা অটোরিকশাচালক আকাশ বলেন, “আমার বাড়ি দেওয়ানগঞ্জ। সেখান থেকে এখানে গ্যাস নিতে আসি। আমার গাড়িতে প্রায় ৫০০ টাকার গ্যাস লাগে। কিন্তু এখানে এসে ৮০ থেকে ১০০ টাকার বেশি গ্যাস পাই না। এত কম গ্যাসে বাড়ি থেকে পাম্পে আসা এবং বাড়ি ফিরে যাওয়াতেই গ্যাস শেষ হয়ে যায়। তাহলে ভাড়া মারব কখন?”
চালকরা বলেন, শুধু একটি ফিলিং স্টেশনের ওপর জেলার কয়েক হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশার গ্যাসের চাহিদা নির্ভর করায় সংকট আরও প্রকট হয়েছে। দ্রুত সংকট সমাধান না হলে চালকদের আয় কমার পাশাপাশি যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থাতেও এর প্রভাব পড়বে।
এ অবস্থায় জাবেদ ফিলিং স্টেশনে চালকদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জামালপুরে দ্রুত আরও একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। দাবি পূরণ না হলে অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
তবে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির অভিযোগ অস্বীকার করে জাবেদ ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতিকুল রহমান বাবর বলেন, “এখানে আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। আমাদের ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ নেই। চালকদের দেব কীভাবে? যতক্ষণ গ্যাস সরবরাহ থাকে, ততক্ষণ আমরা গ্যাস দিই। এখন সরবরাহ নেই, তাই গ্যাস দেওয়া বন্ধ আছে।”
এদিকে অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। চালকদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) নাজমুল জান্নাত শাহ বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। আপনারা দেখছেন, আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে বোঝানোর চেষ্টা করছি।”
অবরোধের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে দূরপাল্লার যাত্রী, স্থানীয় পরিবহনসহ পণ্যবাহী যানবাহনের যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চালকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আলোচনা চলছিল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au