কী বার্তা নিয়ে মস্কো গেলেন ট্রাম্পের দূতরা
ইউক্রেন সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো সফর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। তারা ক্রেমলিনে…
মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট স্টাফের প্রায় ৫০ জন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তার পলিগ্রাফ বা লাই ডিটেক্টর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে অননুমোদিত সামরিক তথ্য ফাঁসের উৎস শনাক্ত করতে এই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সম্পর্কিত সামরিক অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে ঘাটতির সংবেদনশীল তথ্য কীভাবে সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছেছে, তা তদন্ত করছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতির তথ্যও রয়েছে।
জয়েন্ট স্টাফ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিকল্পনা ও বিভিন্ন সামরিক অভিযান সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সেখানে কর্মরত শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মীদের লাই ডিটেক্টর পরীক্ষার আওতায় আনার ঘটনাকে আইন ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত বিরল পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য শুধু তথ্য ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা নয়, বরং ভবিষ্যতে সামরিক বাহিনীর সংবেদনশীল তথ্য যাতে অনুমতি ছাড়া গণমাধ্যমে প্রকাশ না হয়, সে বিষয়ে কঠোর বার্তা দেওয়া। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, সামরিক বাহিনীর গোপনীয় তথ্য সুরক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এসব তথ্য সুরক্ষিত রাখা সেনাসদস্যদের নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর সমালোচনা করেছেন এবং তথ্য ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এসব তথ্য প্রকাশকে দেশের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর বিষয় হিসেবে দেখছেন।
তথ্য ফাঁসের তদন্তের পাশাপাশি পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও আলোচনা চলছে। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা বেশ কয়েকজন জেনারেল, অ্যাডমিরাল ও উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পরিবর্তন এবং পদোন্নতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর পেন্টাগন-অর্থায়িত সংবাদপত্র ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর শীর্ষ সম্পাদককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।
পিট হেগসেথের বিরুদ্ধে এর আগে সিগন্যাল অ্যাপে সংবেদনশীল তথ্য শেয়ারের অভিযোগ উঠেছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার কাজের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন। এর ফলে পেন্টাগনের অভ্যন্তরে চাপ ও মতবিরোধ আরও বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রায় ৫০ কর্মকর্তার পলিগ্রাফ পরীক্ষা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের মাত্রা স্পষ্ট করেছে। তদন্তের মাধ্যমে তথ্য ফাঁসের উৎস শনাক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সামরিক গোপনীয়তা রক্ষায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সুত্রঃ দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au