বাংলাদেশে সেল গঠনের চেষ্টা করছে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা
মেলবোর্ন, ১৪ আগষ্ট- বাংলাদেশে সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা বা একিউআইএস নিজেদের কার্যক্রম বিস্তারের জন্য নতুন সেল গঠনের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা…
মেলবোর্ন, ১৩ আগষ্ট- অস্ট্রেলিয়ায় বছরে নিট অভিবাসন ১ লাখ ৩০ হাজারে নামিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা স্পষ্ট করেছে ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ওয়ান নেশন। দলটি জানিয়েছে, তাদের প্রস্তাবিত সীমা নির্ধারণ করা হবে ‘নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন’ বা নিট বিদেশি অভিবাসনের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে।
অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে বর্তমানে অভিবাসন অন্যতম বিতর্কিত বিষয়। দেশটিতে আবাসন সংকটের পাশাপাশি বিশেষ করে শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় সরকারি সেবা ও অবকাঠামোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন, আবাসন সংকটের জন্য অভিবাসীদের দায়ী করা বিপজ্জনক হতে পারে। তাদের মতে, অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজনীয় সংখ্যক নতুন বাড়ি নির্মাণে অভিবাসী শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
‘নেট মাইগ্রেশন’ বলতে কী বোঝায়
নিট বিদেশি অভিবাসনের হিসাব করা হয় একটি নির্দিষ্ট সময়ে কত মানুষ অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করছেন এবং কতজন দেশটি ছেড়ে যাচ্ছেন, তার পার্থক্যের ভিত্তিতে। এই হিসাবে বিদেশ থেকে ফিরে আসা অস্ট্রেলীয় নাগরিকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এর মধ্যে পর্যটক ও ভিজিটর, পরিবার ও পার্টনার ভিসা, ওয়ার্কিং হলিডে ভিসাধারী, দক্ষ অভিবাসী এবং শরণার্থী ও মানবিক কর্মসূচির আওতায় আসা ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত থাকেন।
কোভিড-১৯ মহামারির পর ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় নিট বিদেশি অভিবাসন রেকর্ড ৫ লাখ ৫৬ হাজারে পৌঁছেছিল।
তবে ক্ষমতাসীন লেবার সরকার এরপর অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আরোপের উদ্যোগ নেয়। সরকারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে নিট বিদেশি অভিবাসন ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।
এই লক্ষ্য পূরণে অভিবাসন ব্যবস্থায় আরও বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক গত সপ্তাহে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরার কথা থাকলেও মন্ত্রিসভার মধ্যে কয়েকটি কর্মসূচিতে কাটছাঁটের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়।
ওয়ান নেশনের লক্ষ্য বছরে ১ লাখ ৩০ হাজার
ওয়ান নেশনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, আবাসন, মজুরি ও অবকাঠামোর ওপর চাপ কমাতে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩০ হাজার ভিসা দেওয়ার সীমা নির্ধারণ করতে চায় দলটি।
তবে দলটির এক মুখপাত্র এসব তথ্য আরও স্পষ্ট করে এসবিএস ওয়ার্ল্ড নিউজকে জানিয়েছেন, ১ লাখ ৩০ হাজারের সীমাটি মোট ভিসার সংখ্যা নয়, বরং নিট বিদেশি অভিবাসনের ওপর প্রযোজ্য হবে।
বর্তমান সংখ্যার তুলনায় এটি হবে বড় ধরনের কাটছাঁট। সরকারের দাবি, এমন পদক্ষেপ নিলে বিভিন্ন ধরনের ভিসা কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে এবং দেশজুড়ে উৎপাদনশীলতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে ওয়ান নেশনের নেতা পলিন হ্যানসনের দাবি, অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি সচল রাখতে সরকার অতিরিক্তভাবে অভিবাসনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
অভিবাসন কমানো নিয়ে জোটের ভেতরেই মতবিরোধ
এদিকে বিরোধী জোটের মধ্যেও অভিবাসন কমানোর মাত্রা নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
ন্যাশনালস ও লিবারেল পার্টির শীর্ষ নেতারা বিরোধী দলের হাউজিং বিষয়ক মন্ত্রী অ্যান্ড্রু ব্র্যাগের প্রস্তাব থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছেন। বুধবার ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে দেওয়া এক বক্তব্যে ব্র্যাগ নিট বিদেশি অভিবাসন বছরে ১ লাখ ৮০ হাজারে সীমিত রাখার পক্ষে মত দেন।
তবে ন্যাশনালস পার্টির নেতা ম্যাট ক্যানাভান এরই মধ্যে সতর্ক করেছেন, অভিবাসন কমানোর যেকোনো পদক্ষেপে আঞ্চলিক এলাকাগুলোর কর্মী সংকট আরও বাড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেলর বলেন, ব্র্যাগ তার ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরেছেন। বক্তব্য দেওয়ার আগে তিনি বিষয়টি টেলরের সঙ্গে আলোচনা করেননি বলেও জানান বিরোধীদলীয় নেতা।
ফলে অভিবাসন কমানোর প্রশ্নে অস্ট্রেলিয়ার সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে যেমন মতপার্থক্য রয়েছে, তেমনি বিরোধী জোটের ভেতরেও এ নিয়ে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সূত্র-এসবিএস কম এইউ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au