বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের স্মৃতিস্তম্ভে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে মিশুক মুনীরের ভাই আসিফ মুনীর, চিত্রশিল্পী দিলারা বেগম জলি, ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বুধবার (১২ আগস্ট) একই স্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন ও সমাবেশের আয়োজন করে ব্লাস্ট। সমাবেশ থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
ব্লাস্টের প্রথম দাবি, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আওতায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দেওয়া অর্থকে শুধু ‘অনুদান’ বা ‘আর্থিক সহায়তা’ হিসেবে নয়, যথাযথ ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাস্তবসম্মত ও ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। দ্বিতীয় দাবিতে নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী বা বৈধ প্রতিনিধি এবং আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণের আবেদন প্রক্রিয়া সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও ভুক্তভোগীবান্ধব করার কথা বলা হয়। তৃতীয় দাবিতে সড়কে যানবাহনের সংঘর্ষ প্রতিরোধে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, সড়ক নিরাপত্তাসংক্রান্ত আইন ও নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন এবং সড়ক দুর্ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের ন্যায়বিচার ও প্রতিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
ব্লাস্টের কমিউনিকেশন সমন্বয়কারী মুসফিকুর রহমান মারুফের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
২০১১ সালের ১৩ আগস্ট ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ আরও তিনজন নিহত হন। দুর্ঘটনার ১৫ বছর পরও তাদের স্মরণে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তারেক মাসুদ ১৯৫৬ সালের ৬ ডিসেম্বর ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নূরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শিল্পী এস এম সুলতানের জীবন নিয়ে নির্মিত ‘আদম সুরত’ প্রামাণ্য চিত্রের মাধ্যমে ১৯৮৯ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ।
১৯৯৬ সালে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ‘মুক্তির গান’ নির্মাণ করে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। ২০০২ সালে মুক্তি পায় তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মাটির ময়না’। সিনেমাটি কান চলচ্চিত্র উৎসবের ‘ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট’ বিভাগে প্রদর্শিত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা অর্জন করে।
‘মাটির ময়না’ বাংলাদেশ থেকে সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে একাডেমি অ্যাওয়ার্ডে (অস্কার) জমা দেওয়া প্রথম চলচ্চিত্র। তাঁর অকালমৃত্যু বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে গভীর শূন্যতা তৈরি করে।