বাংলাদেশে সেল গঠনের চেষ্টা করছে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা
মেলবোর্ন, ১৪ আগষ্ট- বাংলাদেশে সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা বা একিউআইএস নিজেদের কার্যক্রম বিস্তারের জন্য নতুন সেল গঠনের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা…
মেলবোর্ন, ১৪ আগস্ট- জাপানের প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেওয়া বিশেষ জাতের তরমুজ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজের একটি কৌতুকপূর্ণ মন্তব্য ঘিরে দুই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের সমালোচনা ও ক্ষমা চাওয়ার দাবির মধ্যেও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন আলবানিজ।
বিতর্কের সূত্রপাত গত জুলাইয়ে। ‘বুশ ডিপ’ নামের একটি কৌতুক পডকাস্টে অংশ নিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির কাছ থেকে পাওয়া দুটি বিখ্যাত ‘ক্রাউন মেলন’ উপহারের প্রসঙ্গ তোলেন আলবানিজ।
পডকাস্টে ওই প্রসঙ্গ বলার সময় আলবানিজের হাতের অঙ্গভঙ্গি ও বক্তব্যের ধরনকে নারীদের প্রতি ইঙ্গিতপূর্ণ এবং অবমাননাকর বলে অভিযোগ তুলেছেন সমালোচকেরা। এরপর থেকেই অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চলছে।
পার্লামেন্টে ক্ষমা চাওয়ার দাবি
মঙ্গলবার অস্ট্রেলীয় পার্লামেন্টের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দল লিবারেল পার্টির সংসদ সদস্য মেরি অলড্রেড আলবানিজের সমালোচনা করেন।তিনি প্রধানমন্ত্রীর আচরণকে ‘অমার্জিত ও সম্মানহানিকর’ বলে উল্লেখ করে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
তবে সেই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন আলবানিজ।জবাবে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের মধ্যকার সম্পর্ক কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী।’
আলবানিজের বক্তব্য, একটি কৌতুককে কেন্দ্র করে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের গুরুত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত নয়।
বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা
বিষয়টি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী শিবিরও সরব হয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর ও উপনেতা জেন হিউম যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে আলবানিজের মন্তব্যকে ‘নোংরা ও অনুপযুক্ত’ বলে আখ্যা দেন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
তাঁদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী যে ধরনের অঙ্গভঙ্গি ও মন্তব্য করেছেন, তা অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অংশীদার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অসম্মানজনক।
সাবেক জাপানি রাষ্ট্রদূতেরও সমালোচনা
বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ক্যানবেরায় দায়িত্ব পালন করা জাপানের সাবেক রাষ্ট্রদূত শিংগো ইয়ামাগামি।স্থানীয় একটি পত্রিকায় লেখা এক নিবন্ধে তিনি দাবি করেন, আলবানিজের মন্তব্য অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তাঁর মতে, দুই দেশের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এ ধরনের মন্তব্যের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন ছিল।
জাপান বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না
তবে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হলেও টোকিও বিষয়টিকে একইভাবে দেখছে না।
জাপান সরকারের পাঠানো একটি কূটনৈতিক বার্তায় বলা হয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হলেও আলবানিজের বক্তব্যে কোনো খারাপ উদ্দেশ্য দেখা যাচ্ছে না।
জাপান সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কঠোর প্রতিক্রিয়াও জানানো হয়নি।
সরকারের পাশে মন্ত্রীরা
আলবানিজের সরকারের মন্ত্রীরাও প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের দাবি, সামান্য একটি কৌতুককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
তবে বিরোধীদের ধারাবাহিক সমালোচনা ও ক্ষমা চাওয়ার দাবির কারণে বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারকে কেন্দ্র করে করা একটি রসিকতা কীভাবে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের আলোচনায় চলে এলো, সেটিই এখন অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au