মোবাইলে ভিডিও ধারণের অভিযোগে মারধর করা হচ্ছে রিকশাচালককে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে। ১৫ আগস্ট ২০২৬।ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভেঙে দেওয়া বাড়ির সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া, মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ এবং শিঙাড়া বিতরণের অভিযোগে তিনজনকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের প্রবেশমুখে এসব ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে মারধরের শিকার ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

মারধর করার পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় রিকশাচালককে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর। ১৫ আগস্ট ২০২৬।ছবি: সংগৃহীত
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তাঁদের মারধর করেন। তাঁরা নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেন। আয়াস নিজেকে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ (এসডিএফ) নামের একটি সংগঠনের সদস্যসচিব হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন জানান, সকাল পৌনে ১২টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের প্রবেশমুখে এক রিকশাচালক মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। একপর্যায়ে আয়াস তাঁর কাছে গিয়ে মুঠোফোনটি পরীক্ষা করেন।

মারধরের পর রিকশাচালককে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে। ১৫ আগস্ট ২০২৬।ছবি: সংগৃহীত
ওই ভিডিও যুবলীগের এক সদস্যের কাছে পাঠানো হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে আয়াসের সঙ্গে থাকা কয়েকজন রিকশাচালককে মারধর করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে আটক করে ধানমন্ডি থানায় নিয়ে যায়।
এর কিছুক্ষণ পর সেখানে থাকা আরেক ব্যক্তি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এরপর তাঁকেও কয়েকজন মারধর করেন। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি দৌড়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
দুপুর ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শিঙাড়া বিতরণ করা হচ্ছে, এমন অভিযোগে আরও একজনকে মারধর করা হয়। তাঁর হাতে থাকা একটি ব্যাগে শিঙাড়া ছিল বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান। মারধরের একপর্যায়ে তিনিও সেখান থেকে দৌড়ে চলে যান।
ফুল দিতে এসে আটক
এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ফুল দিতে আসা অর্ণব দাস নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম বলেন, অর্ণব দাসের বাড়ি টাঙ্গাইলে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে, তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের সক্রিয় কর্মী। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

শিঙাড়া বিলি করার অভিযোগে মারধর করা হচ্ছে আরেকজনকে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর। ১৫ আগস্ট ২০২৬।ছবি: সংগৃহীত
ঘটনার বিষয়ে আ ন ম আয়াস সাংবাদিকদের বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা যাতে কোনো ‘অপতৎপরতা’ চালাতে না পারেন, সে জন্য তাঁরা সেখানে অবস্থান করছেন। কাউকে পেলে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁদের বিরুদ্ধে মব তৈরি করে মানুষকে মারধরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আয়াস তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তাঁরা মব তৈরি করছেন না, আওয়ামী লীগ বা যুবলীগের কাউকে পেলে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করছেন।
পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে আয়াস ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

শিঙাড়া বিলির অভিযোগে মারধর করা হচ্ছে একজনকে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর। ১৫ আগস্ট ২০২৬।ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা মহানগর পুলিশের ধানমন্ডি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার সাদ্দাম হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

হাতে বেল্ট ও ঝাঁটা নিয়ে একজনকে মারতে উদ্যত হয়েছেন আ ন ম আয়াস। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে। ১৫ আগস্ট ২০২৬।ছবি: সংগৃহীত
শনিবার ভোর থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর ভেঙে দেওয়া বাড়ির সামনের সড়কের দুই পাশে পুলিশের ব্যারিকেড বসানো হয়। ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পথচারীদেরও সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না।
সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি উৎসুক মানুষের ভিড়ও দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেখানে পুলিশের সাঁজোয়া যানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।