১০৯ বছর আগে ব্রিটিশ সরকারকে দেওয়া ঋণ ফেরত চান ভারতীয় ব্যবসায়ীর উত্তরসূরিরা
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারকে দেওয়া ৩৫ হাজার টাকার একটি পুরোনো ঋণ ১০৯ বছর পর সুদসহ ফেরত চেয়েছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের এক ব্যবসায়ী পরিবারের…
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের স্মরণে জাপানের বিতর্কিত ইয়াসুকুনি মন্দিরে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি। তাঁর এই সফরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া।
শনিবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের আত্মসমর্পণের ৮১তম বার্ষিকীতে ইয়াসুকুনি মন্দিরে যান কোইজুমি। সেখানে তিনি জাপানের যুদ্ধে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
টোকিওর এই মন্দিরে প্রায় ২৫ লাখ যুদ্ধাহত ও নিহত ব্যক্তির স্মরণ করা হয়। তাঁদের বেশির ভাগই জাপানি। তবে এই তালিকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জাপানের সামরিক আগ্রাসন ও দখলদারির সঙ্গে জড়িত যুদ্ধাপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
এ কারণে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ জাপানের প্রতিবেশী দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইয়াসুকুনি মন্দিরে জাপানি শীর্ষ রাজনীতিকদের সফরকে অতীতের যুদ্ধাপরাধের জন্য জাপানের যথাযথ অনুশোচনা না থাকার প্রতীক হিসেবে দেখে আসছে।
ইয়াসুকুনিতে নিয়মিত যাতায়াতকারী কোইজুমি মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি।
পরে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘জাতির জন্য মূল্যবান জীবন উৎসর্গ করা বীর আত্মাদের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাতে’ তিনি মন্দিরে গিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ পরিত্যাগের অঙ্গীকারের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে জাপানের যুদ্ধ-পরবর্তী পথ অনুসরণ এবং সেই দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি আবারও নিজের দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ইয়াসুকুনি মন্দিরে যেতে পারেন, এমন জল্পনা ছিল। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি নিয়মিত এই মন্দিরে যেতেন। তবে এবার তিনি সেখানে যাননি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তাকাইচি মন্দিরে একটি শ্রদ্ধার্ঘ্য পাঠিয়েছেন। অতীতের কয়েকজন জাপানি প্রধানমন্ত্রীও একই ধরনের শ্রদ্ধার্ঘ্য পাঠিয়েছেন।
কোইজুমির মন্দির সফর এবং তাকাইচির শ্রদ্ধার্ঘ্য পাঠানোর ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জাপানের এই পদক্ষেপকে ‘কঠোরভাবে নিন্দা’ করেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে জাপানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

১৫ আগস্ট জাপানের টোকিওতে ইয়াসুকুনি মন্দিরে যুদ্ধে নিহতদের স্মরণে নীরব শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় এক ব্যক্তি ইশারা করছেন। [ইসেই কাতো/রয়টার্স]
দক্ষিণ কোরিয়ার ভাষায়, জাপানি নেতাদের এমন কর্মকাণ্ড ‘অতীতের সঙ্গে বেমানান’। দেশটি জাপানের নেতাদের ইতিহাসের মুখোমুখি হওয়ার এবং অতীতের জন্য বিনয়ী আত্মসমালোচনা ও আন্তরিক অনুশোচনা কার্যকরভাবে প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছে।
ইয়াসুকুনি মন্দিরে স্মরণ করা প্রায় ২৫ লাখ যুদ্ধমৃতের মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ১৪ জন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী রয়েছেন, যাঁরা সবচেয়ে গুরুতর যুদ্ধাপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। এ ছাড়া মিত্রবাহিনীর আদালতে দোষী সাব্যস্ত আরও অন্তত ১ হাজার যুদ্ধাপরাধীর নামও রয়েছে।
জাপানি কর্মকর্তারা অতীতে ইয়াসুকুনি সফরকে ব্যক্তিগত উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করে বলেছেন, দেশের হয়ে যুদ্ধে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের সম্মান জানাতেই তাঁরা সেখানে যান।
তবে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া মনে করে, মন্দিরে শীর্ষ জাপানি নেতাদের সফর জাপানের সামরিক আগ্রাসন ও যুদ্ধকালীন কর্মকাণ্ডের প্রতি এক ধরনের স্বীকৃতি বা সহানুভূতির বার্তা বহন করে।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা এর আগেও ইয়াসুকুনি মন্দিরে গেছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে মন্দিরটিতে গিয়েছিলেন তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিনোরু কিহারা।
তবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সর্বশেষ কোনো জাপানি প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুকুনি মন্দিরে গিয়েছিলেন ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ওই সফর করেছিলেন। তাঁর সেই সফরে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনও হতাশা প্রকাশ করেছিল।
সূত্র-আলজাজিরা.কম
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au