ভিক্টোরিয়া কর্তৃপক্ষ ফিলিপ আইল্যান্ড ও সেন্ট কিলডায় ৫ হাজারের বেশি ছোট পেঙ্গুইনকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। ছবি: আর্থকেয়ার সেন্ট কিলডা
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- অস্ট্রেলিয়ার ফিলিপ আইল্যান্ডে একটি ছোট পেঙ্গুইনের শরীরে প্রথমবারের মতো এইচ৫ বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত পেঙ্গুইনটি পরে মারা গেছে। এ ঘটনায় দ্বীপটির প্রায় ৪০ হাজার ছোট পেঙ্গুইনের বিশাল কলোনি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
ভিক্টোরিয়া রাজ্য সরকার জানিয়েছে, আক্রান্ত পেঙ্গুইনটি বিখ্যাত ‘পেঙ্গুইন প্যারেড’ এলাকায় পাওয়া যায়নি। তবে ঠিক কোন স্থানে পেঙ্গুইনটি পাওয়া গেছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ছোট পেঙ্গুইনের কলোনি রয়েছে ফিলিপ আইল্যান্ডে। সেখানে প্রায় ৪০ হাজার পেঙ্গুইন রয়েছে। দ্বীপটির এই পেঙ্গুইন কলোনি ভিক্টোরিয়া রাজ্যের অন্যতম পরিচিত বন্যপ্রাণী আকর্ষণ।
সংরক্ষণবাদীদের মধ্যে আগে থেকেই আশঙ্কা ছিল, এইচ৫ বার্ড ফ্লু ফিলিপ আইল্যান্ডে পৌঁছালে ব্যাপকসংখ্যক পেঙ্গুইন মারা যেতে পারে। নতুন করে একটি পেঙ্গুইনের শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় সেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বার্ড ফ্লুর বিস্তার ঠেকাতে আগামী সোমবার থেকে ফিলিপ আইল্যান্ড ও সেন্ট কিলডায় ৫ হাজারের বেশি ছোট পেঙ্গুইনকে টিকা দেওয়ার কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি বন্য পাখিদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় এইচ৫ টিকাদান কর্মসূচি।
ছোট পেঙ্গুইন সাধারণত প্রতি রাতে একই গর্তে ফিরে আসে। ফলে অন্যান্য অনেক বন্য পাখির তুলনায় তাদের শনাক্ত করে টিকা দেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ।
তবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন সহজ নয়। প্রতিটি পেঙ্গুইনকে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই ডোজ করে টিকা দিতে হবে।
ভিক্টোরিয়ার প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ড. গ্রায়েম কুক বলেন, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত স্থানীয় পাখিদের জন্য এইচ৫এন১ টিকার ব্যবহারে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন পাওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আগামী সোমবার থেকে ছোট পেঙ্গুইনদের টিকাদানে সহায়তার জন্য অ্যাগ্রিকালচার ভিক্টোরিয়া ফিলিপ আইল্যান্ড নেচার পার্কসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।’
ড. কুক বলেন, ছোট পেঙ্গুইনের শরীরে প্রথমবার এইচ৫ শনাক্ত হওয়া উদ্বেগের বিষয়। তবে ফিলিপ আইল্যান্ডের পেঙ্গুইনদের টিকাদান এই গুরুত্বপূর্ণ কলোনিকে সুরক্ষিত রাখতে কার্যকর একটি উদ্যোগ হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘টিকা সংক্রমণের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ নিশ্চয়তা দেয় না। তবে এই জনসংখ্যার ওপর এইচ৫ বার্ড ফ্লুর প্রভাব কমাতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে।’
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পেঙ্গুইন কলোনির ওপর নিবিড় নজরদারি অব্যাহত থাকবে। নতুন তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপও পরিবর্তন করা হবে।

ফিলিপ আইল্যান্ডে প্রায় ৪০ হাজার ছোট পেঙ্গুইনের বসবাস। এটি বিশ্বে এই প্রজাতির সবচেয়ে বড় কলোনি। ছবি: ফিলিপ আইল্যান্ড নেচার পার্কস
পেঙ্গুইনের শরীরে এইচ৫ শনাক্ত হওয়ার খবরটি এমন সময় এলো, যখন অস্ট্রেলিয়াজুড়ে বার্ড ফ্লু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। শুক্রবার পর্যন্ত দেশটিতে মোট ২১৯টি বার্ড ফ্লুর ঘটনা শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে অসুস্থ বা মৃত বন্যপ্রাণী স্পর্শ না করতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি পোষা প্রাণীকে অসুস্থ বা মৃত বন্যপ্রাণীর কাছ থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ফিলিপ আইল্যান্ডের ছোট পেঙ্গুইনগুলোকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার সংরক্ষণবাদীদের উদ্বেগের মূল কারণ হলো, দ্বীপটিতে থাকা বিশাল এই কলোনিতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সূত্র-নিউজ. কম. এইউ