১০৯ বছর আগে ব্রিটিশ সরকারকে দেওয়া ঋণ ফেরত চান ভারতীয় ব্যবসায়ীর উত্তরসূরিরা
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারকে দেওয়া ৩৫ হাজার টাকার একটি পুরোনো ঋণ ১০৯ বছর পর সুদসহ ফেরত চেয়েছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের এক ব্যবসায়ী পরিবারের…
মেলবোর্ন, ১৫ আগস্ট ২০২৬: অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে।
‘হৃদয়ে ৭১ অস্ট্রেলিয়া’র উদ্যোগে শনিবার সন্ধ্যায় টার্নেইটের জুলিয়া গিলার্ড লাইব্রেরি তথা টার্নেইট কমিউনিটি লার্নিং সেন্টারে এ স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। “শোকার্ত আগস্ট: স্মরণ, শ্রদ্ধা, শপথ”—এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেলবোর্নের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
আলোচনা, বক্তব্য, কবিতা আবৃত্তি, সংগীত ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর জীবন, রাজনৈতিক সংগ্রাম, স্বাধীনতা অর্জনে তাঁর ঐতিহাসিক নেতৃত্ব এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে তাঁর অবদান তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডে নিহত বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যসহ সকল শহীদকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি সন্তানদের অংশগ্রহণ। তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন, রাজনৈতিক দর্শন, নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করে।
প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মুখে বঙ্গবন্ধুর জীবনদর্শন ও আদর্শের কথা শুনে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দর্শকদের মধ্যে বলতে শোনা যায়, নতুন প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও তাঁর ঐতিহাসিক অবদানের তাৎপর্য উপলব্ধি করতে শুরু করেছে। এ উপলব্ধি তাঁদের আশাবাদী করে তুলেছে যে ভবিষ্যতে কোনো শক্তিই ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম ও অবদান মুছে ফেলতে পারবে না।

প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মুখে বঙ্গবন্ধুর জীবনদর্শন ও আদর্শের কথা শুনে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ছবিঃ সংগৃহীত
অনুষ্ঠানে ‘হৃদয়ে ৭১’-এর সদস্য কমিটির অনেকে বক্তব্য দেন। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু পরিষদ মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ এবং অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ ভিক্টোরিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের মূল্যবোধ প্রবাসে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম কাজী তাঁর বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব এবং স্বাধীনতার জন্য বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আহ্বান ও নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল।
অনুষ্ঠানের অধিকাংশ বক্তা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বের কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি দেশকে বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে পুনর্গঠনের পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, প্রশাসনিক ব্যবস্থা সচল করা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন এবং মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড়ানোর ভিত্তি তৈরি করেছিলেন।
বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু কেবল বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতিই নন; তিনি বাঙালির আত্মপরিচয়, অধিকার ও মুক্তির সংগ্রামের চিরন্তন প্রতীক। তাঁর আদর্শ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর জীবন, রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড নিয়ে নির্মিত দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রামাণ্যচিত্র দুটিতে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের বিভিন্ন অধ্যায়ের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্যদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উঠে আসে। হৃদয়বিদারক দৃশ্যগুলো দর্শকদের গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করে এবং অনুষ্ঠানস্থলে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আলোচনা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি আবৃত্তি ও সংগীতের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা হয়। পরিবেশনাগুলো উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে গভীর আবেগ ও দেশাত্মবোধ জাগিয়ে তোলে।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন জান্নাতুল ফেরদৌস নৌজুলা ও ম ইফতি। তাঁরা অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বের মধ্যে সমন্বয় করেন এবং বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুরো আয়োজনটি এগিয়ে নেন।
আয়োজকেরা বলেন, শোকাবহ আগস্ট কেবল বেদনা ও হারানোর স্মৃতি বহন করে না; এটি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা এবং একটি মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার শপথ নেওয়ারও সময়।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত তাঁর পরিবারের সদস্যসহ সকল শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au