ট্যাপেন্টাডলসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা হাসিব আটক
মেলবোর্ন, ১৬ আগস্ট ২০২৬: ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম হাসিবকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর কাজলা এলাকার…
মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট- কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় শহরের ছয়রাস্তা মোড়ে এ সংঘর্ষে কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভিপি নুরুল হক নুর ও রাশেদ খানকে নিয়ে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার কথিত কটূক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে কুষ্টিয়া জেলা গণঅধিকার পরিষদ। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ছয়রাস্তা মোড় এলাকায় নেতা-কর্মীরা অবস্থান করছিলেন।
এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কর্মসূচি শেষে গাড়িযোগে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন এমপি মুফতি আমির হামজা। তার গাড়িবহর ছয়রাস্তা মোড় এলাকায় গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভ মিছিলের কাছাকাছি পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন উভয় দলের নেতা-কর্মীরা।
এমপি মুফতি আমির হামজার অভিযোগ, গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক ও সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে তার গাড়িবহরে হামলা চালান। এ সময় তিনি নিজেসহ জামায়াতের অন্তত সাতজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
মুফতি আমির হামজা বলেন, তার গাড়িতে হামলার পাশাপাশি নেতা-কর্মীদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনার জন্য গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের দায়ী করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ অভিযোগ করেন, তাদের পূর্বনির্ধারিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান। তিনি বলেন, ভিপি নুরুল হক নুর ও রাশেদ খানকে নিয়ে এমপি আমির হামজার কথিত কটূক্তির প্রতিবাদে তারা ছয়রাস্তা মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছিলেন। এ সময় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালানোর পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করেন।
তৌকির আহমেদ দাবি করেন, হামলায় তিনি নিজেসহ গণঅধিকার পরিষদের অন্তত তিনজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সংঘর্ষের প্রকৃত সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার পর ধাক্কাধাক্কি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের পর ছয়রাস্তা মোড় ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের মামলা বা লিখিত অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি। সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা এবং হামলার কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au