বাংলাদেশ

সাগরপথে ইউরোপে যাওয়া অভিবাসীদের ২৬ শতাংশই বাংলাদেশি, ৬ মাসে মৃত্যু ১,৬৬৮

  • 5:17 am - August 16, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৯ বার
সাগরপথে ইউরোপে যাওয়া অভিবাসীদের ২৬ শতাংশই বাংলাদেশি। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট- চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে অন্তত ১ হাজার ৬৬৮ জন অভিবাসী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রা, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নৌযান এবং সমুদ্রে উদ্ধার তৎপরতার নানা সীমাবদ্ধতাকে প্রাণহানির অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ১ হাজার ৬৬৮ জন অভিবাসী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৫ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা ৬০০-এর বেশি বেড়েছে।

নতুন বছরের শুরুটাও ছিল বিশেষভাবে প্রাণঘাতী। সমুদ্রপথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে একের পর এক নৌযান দুর্ঘটনায় অভিবাসীদের প্রাণহানি ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে নৌযান নিখোঁজ হওয়ার পরও যাত্রীদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় পথ সবচেয়ে প্রাণঘাতী

আইওএমের হিসাব অনুযায়ী, নিহত বা নিখোঁজদের মধ্যে ৮৭২ জন সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুট দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার সময় প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। এই পথটি ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত।

এই রুটে উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে নৌযানে করে অভিবাসীরা ইতালির দিকে যাত্রা করেন। বিশেষ করে লিবিয়া থেকে ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপের দিকে যাওয়ার পথটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু সমুদ্রের প্রতিকূল আবহাওয়া, অনিরাপদ ও পুরোনো নৌযান এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে এ পথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট ও যাত্রার দেশ হিসেবে লিবিয়া এখনো গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা লিবিয়ায় পৌঁছে সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

৯ আগস্ট প্রকাশিত বেসরকারি সংস্থা ‘অ্যালার্ম ফোন’-এর অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীদের ক্রমবর্ধমান প্রাণহানির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

সাগরপথে যাওয়া অভিবাসীদের সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি

সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুটে যাত্রা করা অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেশি। এসওএস মেদিতারানের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই রুটে যাত্রা করা অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশিরাই সবচেয়ে বড় অংশ, যা মোট অভিবাসীর প্রায় ২৬ শতাংশ।

এর পরের অবস্থানে রয়েছে ইরিত্রিয়া থেকে আসা অভিবাসীরা, যাদের হার ১৬ শতাংশ। সুদানের নাগরিক ১৩ শতাংশ, পাকিস্তানের ১২ শতাংশ এবং মিসরের ৯ শতাংশ।

অর্থাৎ সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় পথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টাকারী অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইরিত্রিয়া, সুদান, পাকিস্তান ও মিসরের নাগরিকদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।

২০১৬ সাল থেকে নাইজেরিয়া, আইভরি কোস্ট, গিনি ও মালি থেকেও এই পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করা অভিবাসীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ইউরোপে পৌঁছাচ্ছে কম, কিন্তু মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে লিবিয়া ও তিউনিসিয়া হয়ে সমুদ্রপথে যাত্রা করে ২৬ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ ইউরোপে পৌঁছেছেন। আগের কয়েক বছরের তুলনায় এই সংখ্যা কমেছে।

তবে অভিবাসীদের ইউরোপে পৌঁছানোর সংখ্যা কমলেও সমুদ্রপথে নিহত ও নিখোঁজের সংখ্যা বেড়েছে। ফলে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের কঠোর নীতির পাশাপাশি সমুদ্রযাত্রার ঝুঁকি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অভিবাসন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আরনো বানস চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে ইনফোমাইগ্রেন্টসকে বলেছিলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহির্সীমান্তে অভিবাসীদের যাত্রা ঠেকানোর প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। একই সময়ে সমুদ্রপথে যাত্রা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। এর ফলে ইউরোপের উপকূলে পৌঁছাতে পারছেন কম মানুষ, কিন্তু প্রাণ হারাচ্ছেন বেশি।

বাংলাদেশিদের জন্য বাড়ছে ঝুঁকি

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের অংশ সবচেয়ে বেশি হওয়ায় নতুন পরিসংখ্যানটি বাংলাদেশের জন্যও বিশেষ উদ্বেগের। দালালচক্রের মাধ্যমে বিপুল অর্থ ব্যয় করে অনেকে প্রথমে মধ্যপ্রাচ্য বা উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পৌঁছান। পরে লিবিয়া বা তিউনিশিয়া থেকে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে করে ইতালি ও ইউরোপের অন্যান্য দেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

এ যাত্রায় অনেকে মাসের পর মাস লিবিয়ায় মানবেতর পরিবেশে অবস্থান করেন। এরপর পাচারকারী ও দালালদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অনিরাপদ নৌযানে তাদের সমুদ্রযাত্রায় পাঠানো হয়। মাঝসমুদ্রে নৌযান বিকল হওয়া, ডুবে যাওয়া, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং উদ্ধার পেতে বিলম্বের কারণে প্রায়ই বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে অবৈধভাবে প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার পাশাপাশি অভিবাসীদের জন্য নিরাপদ ও বৈধ পথ তৈরির উদ্যোগও প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে অবৈধ মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় বাংলাদেশিদের প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে।

সূত্রঃ  ইনফোমাইগ্রেন্টস

এই শাখার আরও খবর

লিঙ্গ নির্ধারণ পরীক্ষার পর দুই অ্যাথলেটের সব পদক বাতিল

মেলবোর্ন, ১৬ আগস্ট ২০২৬: লিঙ্গ নির্ধারণ পরীক্ষার পর জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়ের অর্জিত সব পদক বাতিল করেছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। নারী বিভাগে প্রতিযোগিতার জন্য…

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত বেড়ে ৪৭

মেলবোর্ন, ১৬ আগস্ট ২০২৬: ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার ভোরে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের পর…

এসএসসিতে সাফল্য, ঢাকার ২৫ মেধাবী শিক্ষার্থীকে ডিসির চিঠি-উপহার

মেলবোর্ন, ১৬ আগস্ট ২০২৬: চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ভালো ফল করা ঢাকার ২৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে ব্যক্তিগত চিঠি পাঠিয়েছেন ঢাকা জেলার…

ট্যাপেন্টাডলসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা হাসিব আটক

মেলবোর্ন, ১৬ আগস্ট ২০২৬: ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম হাসিবকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর কাজলা এলাকার…

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সাড়ে ৭ লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করল মেটা

মেলবোর্ন, ১৬ আগস্ট ২০২৬: অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ…

জামায়াত-গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষ, এমপি আমির হামজাসহ আহত ১০

মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট- কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় শহরের ছয়রাস্তা মোড়ে এ সংঘর্ষে কুষ্টিয়া…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au