নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…
মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট: বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে আবার প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। বিভিন্ন এলাকায় বন্ধ থাকা দলীয় কার্যালয় খুলছে, কর্মীরা সংগঠিত হচ্ছেন, স্থানীয় নেতারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং কারাগারে থাকা কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার জন্য কি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক মাঠ প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং আওয়ামী লীগ কি আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে?
শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হয়ে ভারতে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়, কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয় এবং বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়।
তবে গত কয়েক মাসে পরিস্থিতিতে কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আবারও দলের ব্যানার টাঙানো হয়েছে। কোথাও কর্মীদের ছোট ছোট মিছিল করতে দেখা গেছে। কোথাও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কার্যালয়ে চেয়ার-টেবিল সাজিয়ে কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দেয়ালে আবারও শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি দেখা যাচ্ছে।
এরই মধ্যে শেখ হাসিনা প্রকাশ্যে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বছরের শেষ নাগাদ তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে ফিরে আসার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও তিনি জনগণের কাছে ফিরে যেতে চান।
এসব ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে দুটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। এগুলো কি বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা, নাকি এর পেছনে কোনো সমন্বিত রাজনৈতিক উদ্যোগ রয়েছে? একই সঙ্গে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পুনরুত্থানের জন্য কি ধীরে ধীরে মাঠ তৈরি হচ্ছে?
আওয়ামী লীগের নেতাদের কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার ঘটনাকে এই পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কারাগার থেকে নেতাদের মুক্তি পাচ্ছেন।ছবিঃ সংগৃহীত
২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল শেখ হাসিনা সরকারের সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর তিনি দীর্ঘ সময় জনসম্মুখ থেকে দূরে ছিলেন। গ্রেপ্তারের চার দিন পরই তিনি জামিন পান।
এর প্রায় দুই মাস পর, ৩ জুন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা সেলিনা হায়াৎ আইভীও জামিন পান। তিনি প্রায় এক বছর কারাগারে ছিলেন।
বাংলাদেশ পুলিশ ও সরকারি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৬ সাল পর্যন্ত সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে মোট ১১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন সাবেক নারী সংসদ সদস্য।
এদের মধ্যে অন্তত আটজন ইতোমধ্যে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। জামিন পাওয়া অনেক নেতার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। কারও বিরুদ্ধে ছয় থেকে ১০টি মামলা থাকলেও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ৫০টির বেশি মামলা রয়েছে।
জামিন পাওয়া নেতাদের মধ্যে সাবের হোসেন চৌধুরীও রয়েছেন। তিনি শেখ হাসিনার সরকারের সাবেক সচিব ছিলেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনীতিকদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। তিনি এর আগে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গ্রেপ্তার ও জামিনের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও জামিন সংক্রান্ত তথ্য’।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী ১৩ মাসে ৪৪ হাজার ৪৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৩২ হাজার ৩৭১ জন জামিন পেয়েছেন। অর্থাৎ গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৭৩ শতাংশ ইতোমধ্যে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। তাদের বড় একটি অংশ আওয়ামী লীগের নেতা ও কর্মী।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালনা করা হয়েছিল। তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত সাত মাসে এ ধরনের অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এর ফলে আওয়ামী লীগের জন্য রাজনৈতিক পরিসর ধীরে ধীরে আবার উন্মুক্ত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার শিহাবউদ্দিন খান বলেছেন, কারও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তার নাগরিক ও আইনগত অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করেই আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত।
আওয়ামী লীগ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও সীমিত ছিল। এখন দলের নেতারা স্থানীয় নির্বাচনকে সংগঠন পুনর্গঠনের একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
২০২৬ সালের শেষ দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কোনো কোনো সূত্রের দাবি, অক্টোবরের শুরুতেই এই নির্বাচন হতে পারে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হয় না। ফলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ইউনিয়ন পরিষদগুলো আওয়ামী লীগের তৃণমূল সাংগঠনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। সরকার পতনের পর এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়।
বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসকদের কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ ওঠায় নতুন নির্বাচনের দাবি জোরালো হচ্ছে। আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, দলীয় প্রতীক না থাকায় তাদের সমর্থকেরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
জামালপুরের কামাল হোসেন এমন একজন নেতা। তিনি আগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে পদ হারানোর পর এবার আবারও একই পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।
চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকার একজন সম্ভাব্য প্রার্থীও জানিয়েছেন, স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক প্রয়োজন না হওয়ায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সাংগঠনিক সম্পাদকও জানিয়েছেন, দলের কর্মীরা গ্রামাঞ্চলে নীরবে সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন। সময় হলে তারা আরও প্রকাশ্যে সক্রিয় হতে পারেন।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ বলেছেন, আইনগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য যে কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানও জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ এফ এম বাহাউদ্দীন নাছিমের দাবি, শেখ হাসিনা নিজেই দলীয় কর্মীদের যেখানে সম্ভব স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা দাবি করেছেন, শেখ হাসিনা দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনজুড়ে দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
দলীয় সূত্রের দাবি, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে নয়, উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গেও ভার্চুয়াল বৈঠক হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এসব বৈঠকে স্থানীয় সংগঠনের অবস্থা, নেতাকর্মীদের সমস্যা, নতুন কমিটি গঠন এবং সাংগঠনিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা করা হচ্ছে বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের রাঙ্গুনিয়া থানা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিমুল গুপ্ত জানিয়েছেন, তিনি এ ধরনের কয়েকটি অনলাইন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। তার দাবি, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দলীয় কর্মীদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত দলের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।
ঢাকা জেলা যুবলীগের সদস্য জাকারিয়া দীপুও দাবি করেছেন, ৫ আগস্টের পর থেকে শেখ হাসিনা টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে থানা, উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
তার দাবি, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করতে চান এবং দলীয় নেতা-কর্মীরাও একইভাবে প্রস্তুত রয়েছেন।
আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক হোসেন তুহিনও জানিয়েছেন, তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পর্যন্ত শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা চলছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য রাজনৈতিক উপস্থিতি অনেকটাই অদৃশ্য হয়ে যায়। দলের অধিকাংশ কার্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
এখন কয়েকটি এলাকায় আবারও দলীয় কার্যালয় খুলতে শুরু করেছে।
পঞ্চগড়ের চাকলাহাটে দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকা একটি আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আবার দলের ব্যানার টাঙানো হয়েছে। ভেতরে চেয়ার সাজানো হয়েছে এবং দলীয় কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
জেলা ও বিভিন্ন শহর মিলিয়ে অন্তত ৫০টি আওয়ামী লীগ কার্যালয় পুনরায় খোলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কিছু এলাকায় অবশ্য কার্যালয় খোলার বিষয়টি এখনো প্রতীকী পর্যায়ে রয়েছে। শুধু ব্যানার ও ছবি টাঙিয়ে দলীয় উপস্থিতির জানান দেওয়া হচ্ছে।
মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ও আবার খোলার খবর পাওয়া গেছে। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দেও দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টাঙানো হয়েছে।
তবে রাজধানীর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও প্রধান কার্যালয় এখনো বন্ধ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অগ্নিসংযোগের পর থেকে ভবনটি আর চালু হয়নি।
শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানানোর পর বিএনপির পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন বলেছেন, শেখ হাসিনা সত্যিই দেশে ফিরতে চাইলে তাকে বাংলাদেশে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এরপর তাকে নিজের নির্দোষতা প্রমাণ করতে হবে।
আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিনে মুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, এটিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার হিসেবেই দেখা উচিত।
শেখ হাসিনার জন্য দেশে ফেরার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন রাজনৈতিক নয়, বরং আইনি বিষয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৬৬৩টি মামলা রয়েছে এবং একটি মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশে ফিরলে তাকে সরাসরি গ্রেপ্তারের মুখে পড়তে হতে পারে।

বিএনপির নেতা।ছবিঃ সংগৃহীত
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিমের মতে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তিনি দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী বিমানবন্দরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
২০২৪ সালের আন্দোলনের পর চার ছাত্রনেতাকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে মন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। পরে তারা জাতীয় নাগরিক পার্টি গঠন করেন।
প্রথম দিকে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বড় জনসমাগম দেখা গেলেও সময়ের সঙ্গে সেই প্রভাব কমেছে। সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি ছয়টি আসনে জয় পায়। গত সাত মাসে দলটির জনসমর্থন ও ছাত্রনেতাদের প্রভাব কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন ছাড়া তাদের অনেক কর্মসূচিতে আগের মতো বড় জনসমাগম হচ্ছে না।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ পুরোপুরি রাজনৈতিকভাবে অদৃশ্য হয়ে যায়নি। গোপন বৈঠক, অনলাইন যোগাযোগ, সাংগঠনিক তৎপরতা এবং বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট মিছিলের মাধ্যমে দলটি নিজেদের উপস্থিতি ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নুরুল হুদা সাকিব মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি এখনো শেখ হাসিনার দেশে ফেরার জন্য অনুকূল নয়।
তার মতে, বিএনপি শেখ হাসিনার দেশে ফেরাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেবে না। ফলে তার দেশে ফেরার রাজনৈতিক ও আইনি পথ এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি।
তবে তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ আবারও সেই পথ খুঁজতে শুরু করেছে। বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যালয় খোলা, নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা, স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি এবং অনলাইন যোগাযোগ বাড়ানোর ঘটনাগুলোকে সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au