কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন আজ
মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট: বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের নাম আইয়ুব বাচ্চু। গায়ক, গিটারবাদক, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে কয়েক দশক ধরে তিনি…
মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রামপুরহাটের সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তার মরদেহের সঙ্গে একটি চিঠি পাওয়া গেছে, যেটিকে ‘সুইসাইড নোট’ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই চিঠিতে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় তার মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার জন্য গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি।
রোববার সকালে পশ্চিমবঙ্গের রামপুরহাটের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ায় নিজের বাড়ির পাশের দলীয় কার্যালয় থেকে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
তবে উদ্ধার হওয়া চিঠিটি সত্যিই আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা কি না, তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, এসব বিষয় এখন তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
চিঠিতে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তিনি কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক থাকার সময়ও তিনি কোনো ধরনের দুর্নীতিতে জড়াননি। রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও তা কখনো ব্যক্তিগত শত্রুতায় পরিণত হয়নি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।
চিঠিতে নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন আশিস। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দলের বিভিন্ন অন্যায় তিনি মেনে নিতে পারেননি। কিন্তু সেসব বিষয়ে কখনো প্রকাশ্যে প্রতিবাদও করতে পারেননি। তিনি দাবি করেছেন, সারা জীবনে কোনো কাজের বিনিময়ে এক পয়সাও নেননি।
তারাপীঠ রামপুরহাট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা টিআরডিএ নিয়েও চিঠিতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তার দাবি, সেখানে সাধারণ সভায় অংশ নেওয়া ছাড়া তার কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল না। তিনি টেন্ডার কমিটির সদস্য ছিলেন না এবং কোনো চেক অনুমোদনের ক্ষমতাও তার ছিল না।
এমনকি কোনো প্ল্যান অনুমোদন বা ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার কোনো ভূমিকা ছিল না বলে চিঠিতে দাবি করেছেন তিনি।
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেছেন, তাকে অপমান ও হেয় করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছিল। এসব কারণে একপর্যায়ে তার মনে হয়েছে, রাজনীতিতে আসাটাই তার ভুল হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় তিনি ভবিষ্যতে রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের নিজ নিজ পেশা ও কাজের মধ্যেই থাকার কথা বলেছেন তিনি।
চিঠিতে নিজের শিক্ষকতা জীবনের কথাও স্মরণ করেছেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন, জীবনের দীর্ঘ সময় শিক্ষকতা করেছেন এবং কখনো ক্লাস ফাঁকি দেননি। বিশেষ ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি বহু শিক্ষার্থীকে বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তিনি যে ভালোবাসা পেয়েছেন, সেটিও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।
চিঠির শেষদিকে পরিবারের সদস্যদের নাম উল্লেখ করে তাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেন আশিস। তবে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম তিনি উল্লেখ করেননি। কাউকে সরাসরি তার মৃত্যুর জন্য দায়ীও করেননি। তাকে কারা অপমান বা হেয় করার চেষ্টা করেছিলেন, সে বিষয়েও চিঠিতে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
সবশেষে চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ২০০১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা রামপুরহাটের বিধায়ক ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায়ও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গের সাবেক স্কুলশিক্ষামন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রী ছিলেন।
২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
তার মৃত্যুর ঘটনা এবং উদ্ধার হওয়া চিঠির বিষয়টি ঘিরে ইতোমধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে চিঠিটির সত্যতা, মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
সুত্রঃ আনন্দবাজার
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au