কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন আজ
মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট: বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের নাম আইয়ুব বাচ্চু। গায়ক, গিটারবাদক, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে কয়েক দশক ধরে তিনি…
মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট: চট্টগ্রাম নগরীর অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদিঘী পূর্ব কর্পোরেট শাখার ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, কোনো বাইরের চক্র নয়, ব্যাংকেরই সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন দীর্ঘ ১৪ মাস ধরে ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নিয়েছেন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেছেন ব্যবসায়ী মো. জাফরুল্লাহ তানভীর।
পুলিশের দাবি, আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ দিয়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় ‘ইশরাত অ্যাগ্রো’ নামে একটি গরুর খামারও গড়ে তোলা হয়েছে। খামারটি পরিচালনা ও দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন কামরুলের সহযোগী জাফরুল্লাহ তানভীর।
এ ঘটনায় অগ্রণী ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ বাদী হয়ে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ ব্যাংক কর্মকর্তা মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং ব্যবসায়ী মো. জাফরুল্লাহ তানভীরকে (২৫) গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তদন্ত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত ধাপে ধাপে ভল্টের টাকা সরানো হয়। টাকা আত্মসাতের ক্ষেত্রে অভিনব কৌশল ব্যবহার করা হতো।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার টাকার নোটের বান্ডিল তৈরি করার সময় বান্ডিলের ভেতরে কৌশলে ১০০ টাকা বা তার চেয়ে কম মূল্যমানের নোট ঢুকিয়ে দেওয়া হতো। ফলে বাইরে থেকে বান্ডিলগুলো স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে প্রকৃত পরিমাণের তুলনায় অনেক কম টাকা থাকত।
ব্যাংকের ভল্টের দায়িত্বে থাকায় কামরুল হোসেন নিজেই অর্থের হিসাব মিলিয়ে রাখতেন। এ কারণে দীর্ঘ ১৪ মাস ধরে বিপুল পরিমাণ অর্থের ঘাটতি ধরা পড়েনি বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ ব্যবসায়ী জাফরুল্লাহ তানভীরের মাধ্যমে স্থানান্তর করা হতো। পরে ওই অর্থ দিয়ে কামরুল হোসেন তার গ্রামের বাড়ি হাটহাজারী উপজেলার উত্তর বুড়িশ্চর এলাকার ফজদের আলী ফকির বাড়িতে ‘ইশরাত অ্যাগ্রো’ নামে একটি গরুর খামার গড়ে তোলেন।
খামারটির দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন জাফরুল্লাহ তানভীর। তদন্তকারীরা এখন খামার তৈরিতে ঠিক কত টাকা ব্যয় করা হয়েছে এবং আত্মসাৎ করা অর্থের আরও কোনো অংশ অন্য সম্পদ বা ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।
কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ১৪ মাস ধরে ধাপে ধাপে টাকা সরানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তিনি জানান, আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে আসামিরা অন্য কোথাও সম্পত্তি বা ব্যবসা গড়ে তুলেছেন কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এত বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকের অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত ছিলেন কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, ভল্টের দায়িত্ব ও অর্থের হিসাব ব্যবস্থার সুযোগ কাজে লাগিয়েই দীর্ঘ সময় ধরে এই অর্থ সরানো হয়েছে। পুরো ঘটনায় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও নজরদারির কোনো দুর্বলতা ছিল কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au