কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন আজ
মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট: বাংলা ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের নাম আইয়ুব বাচ্চু। গায়ক, গিটারবাদক, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে কয়েক দশক ধরে তিনি…
মেলবোর্ন, ১৬ আগষ্ট: ক্যাটাগরি-১ মাত্রার হারিকেন ‘লালা’ হাওয়াইয়ের দিকে ধেয়ে আসায় অঙ্গরাজ্যটিতে ব্যাপক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত নিয়ে ঝড়টি এগিয়ে আসায় বন্যা, ভূমিধস, জলোচ্ছ্বাস ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে হাওয়াইয়ের ৪২ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতিকে ‘জীবন-হুমকিপূর্ণ’ উল্লেখ করে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার।
পাওয়ারআউটেজ ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার (১৫ আগষ্ট ) দুপুর ২টা ১৪ মিনিট পর্যন্ত হাওয়াইয়ে মোট ৪২ হাজার ৮৮৯ জন গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন। এর মধ্যে বিগ আইল্যান্ডে ৩১ হাজার ৭৯২ জন এবং মাউই কাউন্টিতে ৭ হাজার ২০৩ জন গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কবলে পড়েছেন।
ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিগ আইল্যান্ডে ১০ থেকে ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। কিছু এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ২৫ ইঞ্চিতেও পৌঁছাতে পারে। পূর্ব মাউইয়ে ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি এবং পশ্চিম মাউইয়ে ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বিশেষ করে পাহাড়ি ও খাড়া ঢালু এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। নদী ও উপনদীর পানি দ্রুত বেড়ে গিয়ে তীর উপচে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস।
হারিকেন ‘লালা’র সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৭৫ মাইল বা প্রায় ১২০ কিলোমিটারে পৌঁছেছে। এর ফলে ঝড়টি ক্যাটাগরি-১ হারিকেনে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় দমকা বাতাসের গতি আরও বেশি ছিল। বিগ আইল্যান্ডের মাউনাকেয়া ওয়েদার সেন্টারে ঘণ্টায় ১০০ মাইলের বেশি বেগে দমকা বাতাস রেকর্ড করা হয়েছে।
ঝড়টির সরাসরি আঘাতের আশঙ্কায় কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি নিচ্ছে হাওয়াই। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ‘লালা’ বিগ আইল্যান্ডের দক্ষিণ প্রান্ত ঘেঁষে অতিক্রম করতে পারে অথবা সরাসরি আঘাত হানতে পারে। এরপর ঝড়টি পশ্চিম দিকে এগিয়ে হাওয়াইয়ের অন্যান্য দ্বীপের কাছ দিয়ে অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।
হাওয়াইয়ের গভর্নর জশ গ্রিন বাসিন্দাদের প্রবল বৃষ্টিপাত, ক্ষতিকর বাতাস, আকস্মিক বন্যা এবং বিপজ্জনক সমুদ্রের ঢেউ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিগ আইল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। বাসিন্দাদেরও ঝড়ের প্রভাব আরও বাড়ার আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হারিকেনটির প্রভাবে ইতোমধ্যে হাওয়াইয়ের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিগ আইল্যান্ডের হামাকুয়া উপকূলে গাছ পড়ে কয়েকটি বিদ্যুতের খুঁটি ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা প্রায় ৪২ মাইল বা ৬৭ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সঞ্চালন লাইনের অবস্থা পর্যালোচনা করছেন।
হাওয়াইয়ান ইলেকট্রিক জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে কিছু এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে, এমনকি রাতভরও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কর্মীরা প্রস্তুত রয়েছেন।
ঝড়ের কারণে যোগাযোগব্যবস্থাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। হিলো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং এলিসন ওনিজুকা কোনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাতিল হয়েছে বহু ফ্লাইট। ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, কোনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং হিলো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রায় ৮০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
এ ছাড়া হাওয়াই দ্বীপ, মাউই কাউন্টি ও কাউয়াইয়ের বাণিজ্যিক বন্দরও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো বাতাসের কারণে কোথাও কোথাও মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস।
স্থানীয় আবহাওয়াবিদ জেনিফার মায়ার্স জানিয়েছেন, ভূমিধসের কারণে কিছু সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি গাছ পড়ে বিদ্যুতের লাইনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হিলো এলাকায় ওয়াইলুকু নদীর পানিও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেড়েছে বলে জানান তিনি।
হাওয়াইয়ের বাসিন্দারাও ঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর সুরক্ষায় বালির বস্তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোও বাসিন্দাদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
হাওয়াইয়ে সর্বশেষ বড় ধরনের হারিকেন সরাসরি আঘাত হেনেছিল ১৯৯২ সালে। ওই বছর ক্যাটাগরি-৪ মাত্রার হারিকেন ‘ইনিকি’ অঙ্গরাজ্যটিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এতে ছয়জন নিহত হন এবং প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
দীর্ঘ ৩৪ বছর পর আবারও বড় ধরনের হারিকেনের সরাসরি আঘাতের আশঙ্কায় হাওয়াইয়ের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ঝড়ের গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর নজর রাখছে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au