মুক্তির চার দিনেই ১০০ কোটির ক্লাবে ‘আওয়ারাপান ২’
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্ট: দীর্ঘ ১৯ বছরের বিরতির পর মুক্তি পাওয়া ‘আওয়ারাপান’-এর সিক্যুয়াল ‘আওয়ারাপান ২’ বক্স অফিসে দুর্দান্ত সাড়া ফেলেছে। মুক্তির মাত্র চার দিনেই বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির…
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্ট: মেলবোর্নের একটি হোটেলে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় সিডনি সোয়ান্সের কয়েকজন খেলোয়াড়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চললেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং কোনো খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করা হয়নি।
ভিক্টোরিয়া পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ভোরে ইস্ট মেলবোর্নের পুলম্যান হোটেলে যৌন নিপীড়নের একটি অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সেখানে যায়। ওই সময় হোটেলটিতে অবস্থান করছিল অস্ট্রেলিয়ান ফুটবল লিগের দল সিডনি সোয়ান্স। আগের রাতে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এসেনডনকে হারানোর পর দলটি সেখানে অবস্থান করছিল।
ঘটনার পর কয়েকজন সোয়ান্স খেলোয়াড় পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে তাদের কেউ গ্রেপ্তার হননি। পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ঘটনার সঠিক পরিস্থিতি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ভিক্টোরিয়া পুলিশ মঙ্গলবার জানায়, হোটেলে অবস্থানরত বেশ কয়েকজনের সঙ্গে পুলিশ কথা বলেছে। তবে এ সময় পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার বা আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। তদন্ত চলায় সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাদের পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করতে না পারায় নাম প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিডনি সোয়ান্সের প্রধান কোচ ডিন কক্স। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি অত্যন্ত হতাশ এবং তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী তথ্য জানানো হবে। খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে কক্স বলেন, ক্লাব এএফএল ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
সোয়ান্সের কো-ক্যাপ্টেন ক্যালাম মিলসও সাংবাদিকদের বলেন, তদন্ত চলমান থাকায় এ মুহূর্তে মন্তব্য করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য তাদের কাছে নেই। ঘটনার সব তথ্য পরিষ্কার হওয়ার পরই এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। সিডনি সোয়ান্সের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ প্যাভলিশ এর আগে জানিয়েছিলেন, ক্লাবটি ঘটনার বিষয়ে নিজস্ব অভ্যন্তরীণ তদন্তও চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ক্লাব কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি নিয়ে হতবাক ও হতাশ এবং ঠিক কী ঘটেছে তা বোঝার চেষ্টা করছে।
এদিকে ঘটনাটির প্রভাব পড়েছে এএফএলের কার্যক্রমেও। চলতি সপ্তাহে প্রকাশ হওয়ার কথা থাকা এএফএলের ৪৬ সদস্যের অল অস্ট্রেলিয়ান স্কোয়াড ঘোষণাও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এএফএল প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু ডিলন ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি এএফএল। সংস্থাটির ইন্টিগ্রিটি ইউনিট তদন্তে যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এএফএলে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত খেলোয়াড়দের জন্য বাধ্যতামূলক ভাবে মাঠের বাইরে রাখার কোনো নির্দিষ্ট নীতি নেই। ফলে তদন্তের অগ্রগতি এবং পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই এখন অনেক কিছু নির্ভর করছে।
সিডনি সোয়ান্সের খেলোয়াড়দের সোমবার রাতে মেলবোর্ন থেকে সিডনিতে ফিরে যাওয়ার কথা জানা গেছে। ক্লাবের বোর্ড সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের সাময়িক ভাবে দলের বাইরে রাখা হবে কি না, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। বর্তমানে পুলিশের তদন্তই ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণের মূল বিষয়।
সুত্রঃ এসবিএস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au